
প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুও। বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই দেশে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুজ্বরে মারা গেছেন ৫১ জন, আক্রান্ত ১৩ হাজারের বেশি মানুষ। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বরিশাল ও বরগুনায়, যেখানে শয্যার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেরিতে চিকিৎসা গ্রহণ করাই ডেঙ্গুতে মৃত্যুর প্রধান কারণ। অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, বরগুনায় সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় মৃতের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বেশিরভাগ রোগী হাসপাতালে পৌঁছান অনেক দেরিতে, যখন ডেঙ্গু জটিল রূপ ধারণ করে।
এদিকে, ডেঙ্গু আক্রান্তদের দ্রুত হাসপাতালে আসার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ব্যাপক প্রচার চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বরগুনার পরিস্থিতি সামাল দিতে দুই দফায় অতিরিক্ত চিকিৎসক, নার্স ও অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছে। তবুও রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো।
গত ২৪ ঘণ্টার চিত্র:
-
নতুন ভর্তি: ৪২৫ জন
-
ছাড়পত্র পেয়েছেন: ৩৭৭ জন
-
মৃত্যু: ৩ জন
-
সর্বমোট আক্রান্ত: ১৩,১৮৮ জন
-
মোট ছাড়পত্রপ্রাপ্ত: ১১,৭৮৬ জন
-
সর্বমোট মৃত্যু: ৫১ জন
আঞ্চলিক চিত্র:
-
বরিশাল বিভাগ: ১২০ জন
-
চট্টগ্রাম: ৯৮ জন
-
ঢাকা বিভাগ (বাইরে): ৩৬ জন
-
ঢাকা উত্তর: ৩৮ জন
-
ঢাকা দক্ষিণ: ৫৫ জন
-
খুলনা: ১৮ জন
-
ময়মনসিংহ: ১১ জন
-
রাজশাহী: ৪৮ জন
-
সিলেট: ১ জন
ডেঙ্গুতে মৃতদের মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও খুলনা বিভাগের বাসিন্দারা।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
জ্বর দেখা দিলেই অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। ডেঙ্গু আক্রান্তদের নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে প্লেটলেট পর্যবেক্ষণ ও উপযুক্ত সেবা নিশ্চিত করলেই মৃত্যু কমানো সম্ভব।


