
স্টাফ রিপোর্টার:
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে চুরির প্রতিবাদ করায় এক যুবককে অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হত্যার হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চুরি বেড়েছে। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো বাড়িতে ছাগল, হাঁস-মুরগি, নারিকেল, কলা, এমনকি বিদ্যুতের মিটার ও টিউবওয়েলের যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব চুরি মূলত নেশার টাকার জোগান দিতে সংঘটিত হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে আন্দুয়া (মানসুরাবাদ) গ্রামের কৃষক শাহজাহানের ১২টি কবুতর চুরির ঘটনা নিয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানায়। অভিযোগ রয়েছে, পাশের বাড়ির ফয়সাল, তার ভাই হৃদয় এবং তাদের সহযোগীরা এ চুরির সঙ্গে জড়িত। পরে পঞ্চায়েতের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলে অভিযুক্তরা উপস্থিত হননি।
পরদিন রাতে ভাজনা কদমতলা গ্রামের জসিম হাওলাদারের বাগান থেকে কলা চুরির সময় হৃদয় নামের একজনকে এলাকাবাসী হাতেনাতে আটক করে। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তাকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয় এবং সংশোধনের জন্য সতর্ক করা হয়।
এ ঘটনার পর অভিযুক্ত ফয়সাল তার ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে চোর ধরার সঙ্গে জড়িতদের হত্যার হুমকি দিয়ে পোস্ট দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে ফয়সাল, তার মামা শফিক হাওলাদার এবং তাদের সহযোগীরা মোটরসাইকেলে করে তালতলী সুইজগেট এলাকা থেকে ভাজনা কদমতলার বাসিন্দা ওলি গাজীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে তাকে একটি নির্জন স্থানে হাত-পা বেঁধে মারধর ও নির্যাতন করা হয়।
ওলি গাজীর চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দা বশির মাস্টার এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী ওলি গাজী জানান, “চুরির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি থানায় অভিযোগ করেছি।”
এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত ফয়সাল আবারও ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে হুমকি দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
