
স্টাফ রিপোর্টার: পটুয়াখালী শহরের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা নিউমার্কেটে চাঁদা না পেয়ে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ উঠেছে মৎসজীবী দলের দুই নেতার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে নিউমার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুরগি ব্যবসায়ী খোকন মল্লিকের ‘ভাই ভাই মুরগির আড়ৎ’ থেকে দীর্ঘদিন ধরে জেলা মৎসজীবী দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল গাজী এবং পৌর মৎসজীবী দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম মৃধার নেতৃত্বে বিভিন্ন সময় চাঁদা নেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে পিকনিকের জন্য ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তবে খোকন মল্লিক চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরই জেরে মঙ্গলবার সকালে তারা দলবল নিয়ে ‘ভাই ভাই মুরগির আড়ৎ’-এ হামলা চালায়। এতে খোকন মল্লিকসহ অন্তত চারজন আহত হন। আহতরা হলেন—খোকন মল্লিক, সোহাগ মল্লিক, মাসুদ হাওলাদার ও স্বপন হাওলাদার।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে খোকন মল্লিক বলেন, “শামীম ও বাবুলের লোকজন আগেও একাধিকবার চাঁদা নিয়েছে। এবার ৫ লাখ টাকা দাবি করে। দিতে না চাইলে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। আমি প্রাণ বাঁচাতে দোকানে আশ্রয় নিই।”
প্রত্যক্ষদর্শী করিম জানান, হঠাৎ কয়েকজন লোক এসে খোকন মল্লিককে মারধর শুরু করে। তাদের মধ্যে বাবুল গাজীর হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী আল মামুন বলেন, হামলাকারীরা যাওয়ার সময় হুমকি দিয়ে যায়—কেউ মুখ খুললে তাকেও দেখে নেওয়া হবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শামীম মৃধা বলেন, “চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি সত্য নয়। বাজারের ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়েছে। আমি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছি।”
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন বলেন, ঘটনা তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় নিউমার্কেট এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মনিরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত চলছে, আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ‘
উল্লেখ্য, এর আগে চাঁদাবাজির অভিযোগে ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জেলা মৎসজীবী দলের দপ্তর সম্পাদক মো. আব্দুল জলিল স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে শামীম মৃধাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।

