
স্টাফ রিপোর্টার:
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের এক নেতার ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামিদের ছাড়াতে থানায় ছুটে যান যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা রিপন শরীফ এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
জানা যায়, দুমকি উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের পাগলাড় মোড়ে বিকাশ এজেন্ট ব্যবসায়ী ও পটুয়াখালী জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি মোঃ মনির মোল্লার কাছে কয়েকদিন ধরে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ মার্চ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তার দোকানে অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
হামলায় মনির মোল্লা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় তিনি দুমকি থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রথমে তার কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে একই রাতে আবার সংঘবদ্ধভাবে এসে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দোকানে থাকা প্রায় ৫ লাখ টাকা জোরপূর্বক নিয়ে যায়। এ সময় দোকান ভাঙচুর করা হয় এবং একটি ভিভো Y17S মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল ও যুবদলের দুই নেতাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন বশার (৪০) ও মোঃ শাহীন শরীফ (৩৮)। শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে তাদের নিজ এলাকা থেকে আটক করা হয়। গ্রেফতারের পর তাদের ছাড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় তদবির করেন যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা রিপন শরীফ। এ সংক্রান্ত একটি ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সেলিম উদ্দীন বলেন, “শাহিন শরীফকে গ্রেফতারের সময় রিপন শরীফ তার সঙ্গে ছিলেন। পরে তিনি থানায় এসে আটককৃতদের ছাড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন, তারা নির্দোষ। তবে গ্রেফতারের পরদিনই আসামি দু’জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
এদিকে, ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় পটুয়াখালী জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রুবেল মাহমুদ বলেন, “চাঁদাবাজির অভিযোগে যেখানে আমাদের নেতাকর্মীদের দোকানে হামলা করা হয়, সেখানে প্রকাশ্যে আমাদের নেতাকর্মীরাই হামলার শিকার হন। মামলার পর যখন আসামিদের গ্রেফতার করে পুলিশ, তখন তাদের ছাড়াতে থানায় যান বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা রিপন শরীফ—যা অত্যন্ত দুঃখজনক। যতদূর জানি, বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে এই রিপন শরীফ জড়িত। আমরা ন্যায্য বিচার পাব কিনা, তা নিয়েও সন্দিহান।”
এ বিষয়ে জানতে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা রিপন শরীফ বলেন, আমি থানায় গিয়েছিলাম আমার আত্মীয় এজন্য, আমি ছাড়াতে যায়নি। আমার আত্মীয়কে থানায় ধরে নিয়ে গেলে আমি কি দেখতে যেতে পারবো না ।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত এবং প্রভাব খাটিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে।


