
নির্বাচন পেছাতে চক্রান্ত চলছে, আইনশৃঙ্খলা অবনতির পেছনে সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ: বিএনপি
২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফেব্রুয়ারি মাসেই নির্বাচন চায় বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটি জানিয়েছে, যে কোনো পরিস্থিতিতেই নির্ধারিত সময়ের ভোট আয়োজন করতে হবে, এতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
বিএনপির দাবি, নির্বাচন পেছাতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে। বিএনপি এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সতর্ক ও সংগঠিত রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
নির্বাচনে ছাড় নয়, প্রস্তুতি জোরদার
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সাম্প্রতিক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়—
নির্বাচন পেছানোর প্রক্রিয়াকে কোনোভাবেই মানা হবে না।
দলটির শীর্ষ নেতারা বলছেন, “গণতন্ত্রে উত্তরণের পথ রুদ্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা অবনতির চিত্র সাজানো হচ্ছে।”
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন—
“যত ষড়যন্ত্রই হোক, জাতীয় নির্বাচন আর পেছানো যাবে না।
নির্বাচন পেছালে দেশের পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাবে।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি: দায় সরকারের
বিএনপি মনে করছে, দেশজুড়ে মবোক্র্যাসি, হত্যা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি বেড়ে যাওয়ার পেছনে রয়েছে প্রশাসনের ব্যর্থতা।
তাদের দাবি, একটি মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে অপরাধের বিস্তার ঘটাচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন—
“বিভিন্ন কায়দায় দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে দেখানো হচ্ছে—নির্বাচনের পরিবেশ নেই।
এই নাটকের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচন বিলম্বিত করা।”
কঠোর প্রার্থী বাছাইয়ে মাঠে তারেক রহমান
দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবার মনোনয়ন বাছাইয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
প্রার্থী নির্বাচনে অগ্রাধিকার পাচ্ছে—
- যোগ্যতা
- জনপ্রিয়তা
- অভিজ্ঞতা
- দলের প্রতি নিষ্ঠা
যাঁরা আগের দুঃসময়ে দল থেকে দূরে ছিলেন বা সরকারের সঙ্গে আপস করেছেন—তাঁদের এবার মনোনয়ন দেওয়া হবে না।
একক না জোট—চলছে কৌশলগত আলোচনা
বিএনপি এককভাবে না জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করবে—এ নিয়ে এখনো আলোচনা চলমান।
যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করে আসন সমঝোতা বা ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণ চূড়ান্ত করা হতে পারে।
লন্ডন বৈঠকে ঐক্যমত, সরকারের পদক্ষেপ নেই
লন্ডনে তারেক রহমান ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।
তবে নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না আসায় বিএনপি প্রশ্ন তুলছে সরকারের অবস্থান নিয়ে।
পিআর পদ্ধতির বিরোধিতা
অন্যদিকে, কিছু রাজনৈতিক দল প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) ভিত্তিক ভোটের দাবি তুললেও বিএনপি স্পষ্টভাবে এই দাবির বিরোধিতা করছে।
তাদের মতে, “পিআর পদ্ধতি গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করে”।
নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও বিএনপি ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে অটল অবস্থানে রয়েছে। দলটি মনে করছে,
“নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে আর টালবাহানা নয়—দেশবাসী এখন প্রস্তুত, সরকারকেই তার দায়িত্ব নিতে হবে।”


