
মাহমুদ হাসান রায়হান:
পহেলা বৈশাখের উৎসবে পান্তা-ইলিশের আয়োজন না করে পটুয়াখালী শহরের এক অসহায় প্রতিবন্ধী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রুমি। তিনি শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঋষিবাড়ী এলাকায় বসবাসকারী সুমিত্রা রানীর জরাজীর্ণ ঘর নতুনভাবে নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে ওই এলাকায় গিয়ে ঘর নির্মাণের জন্য কাঠ, টিন, খুঁটি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে উপস্থিত হন তিনি। এ সময় স্থানীয় লোকজনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে সুমিত্রা রানীর স্বামী মারা যান। এরপর একমাত্র প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন শুরু করেন তিনি। নানা কষ্টের মধ্যেও মেয়েকে বিয়ে দিলেও দুই বছরের মাথায় গর্ভবতী অবস্থায় মেয়েকে রেখে চলে যান তার স্বামী। এরপর নাতিকে নিয়ে আরও অনিশ্চয়তায় পড়ে পরিবারটি। জীবিকা নির্বাহের জন্য সুমিত্রা রানী ভিক্ষা ও মানুষের বাসায় বাসায় গিয়ে খাবার সংগ্রহ করেন।
সুমিত্রা রানী বলেন, “বৃষ্টিতে ভিজে, বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে পলিথিন দিয়ে ঘেরা ভাঙাচোরা ঘরে বছরের পর বছর কাটিয়েছি। ঘর মেরামতের সামর্থ্য ছিল না। আজ রুমি সাহেব ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন, এতে আমি খুবই খুশি।”
তার মেয়ে শ্রাবন্তী বলেন, “স্বামী ফেলে যাওয়ার পর অনেক কষ্ট করেছি। অনেকের কাছে সাহায্য চেয়েও পাইনি। আজ আমাদের জন্য নতুন ঘর করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ।”
মোস্তাফিজুর রহমান রুমি বলেন, প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে খাবারের আয়োজন করা হলেও এবার সেই খরচ না করে অসহায় একটি পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণে উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। “এতে প্রায় ৮০ হাজার টাকা ব্যয় হবে। মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের দায়িত্ব,” বলেন তিনি।
উল্লেখ্য যে, এর আগে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং রমজান মাসে রোগী ও দর্শনার্থীদের জন্য সেহরির ব্যবস্থাও করেছেন এই যুবদল নেতা।
