
কুয়াকাটা(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর এবং নগদ ৯০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর দাবি, পূর্বের আর্থিক লেনদেনের জের ধরেই তার প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ বাশার জানান, তিনি কুয়াকাটা পৌরসভা এলাকার হোটেল আমানের সামনে একটি ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। বুধবার ( ৮ এপ্রিল ) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে স্থানীয় মৎস্য আড়ৎ ব্যবসায়ী সোলেমান তার দোকানে এসে অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি দোকানের সামনে থাকা বিভিন্ন মালামাল ফেলে দেন এবং দোকানের কিছু জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন। এ সময় টি-শপের গ্লাসসহ বেশ কিছু সামগ্রী নষ্ট হয়ে যায় বলেও জানান তিনি। পরে দোকানের ক্যাশে রাখা প্রায় ৯০ হাজার টাকা আর পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন বাশার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী বাশারের বাবা আনোয়ার মাঝি-এর সঙ্গে অভিযুক্ত সোলেমানের আর্থিক লেনদেন ছিল। ওই আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করেই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আগে থেকে কোনো বিরোধ চলছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, রাতের এমন ঘটনায় আশপাশের ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকে বলছেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের আচরণ স্থানীয় ব্যবসায়িক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোলেমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত জানান, আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করে , প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং অভিযোগে উল্লিখিত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।


