
সুমন মৃধা,দুমকি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকটে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা।
বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
রোগীদের স্বজনরা জানান, হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও প্রয়োজনীয় অধিকাংশ ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণ বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। এতে আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সোহেল জানান, দুই দিন আগে তার শিশু কন্যাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে গ্যাস্ট্রিক ও প্যারাসিটামল ছাড়া তেমন কোনো ওষুধ দেওয়া হয়নি। স্যালাইন সেট, টেপ, সিরিঞ্জসহ প্রয়োজনীয় সবকিছুই বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেন শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাজাখালী গ্রামের কাওসার মৃধার দাদি মালেকা বেগমসহ আরও কয়েকজন রোগী ও স্বজন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়ার রোগী বাড়লেও পর্যাপ্ত ওষুধ ও সরঞ্জাম সরবরাহ না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ফার্মেসিম্যান মো. রুহুল আমীন জানান, প্রায় দুই মাস আগে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণের মজুত শেষ হয়ে গেছে। চাহিদা পাঠানো হলেও এখনো সরবরাহ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহীদুল হাসান শাহীন সংকটের কথা স্বীকার করে জানান, টেন্ডার জটিলতার কারণে গজ, ব্যান্ডেজ, ক্যানোলা, মাইক্রোপোর, হেক্সিসল, সিরিঞ্জ ও স্যালাইন সেটসহ বিভিন্ন চিকিৎসা উপকরণের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Share our products and watch your earnings grow—join our affiliate program!