
মো. বেল্লাল হোসেন, দশমিনা: পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার একমাত্র নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডাঃ ডলি আকবর মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। খানাখন্দে ভরা বেহাল সড়ক দিয়ে যাতায়াত এবং টিনশেড কক্ষে পাঠদান, দুটি বড় সমস্যায় বিপাকে পড়েছে ছাত্রীদের শিক্ষা জীবন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কলেজটিতে যেতে প্রায় আধা কিলোমিটার রাস্তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ ৭-৮ বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় প্রায় ৫০০ ফুট অংশে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এতে প্রতিদিনই ছাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানিতে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, কলেজে এখনো স্থায়ী ভবন না থাকায় টিনশেড কক্ষে পাঠদান চলছে। গরমে অসহনীয় তাপ আর বর্ষায় পানি পড়ার মধ্যে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি ২০২২ সালে এমপিওভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কাঁচা-পাকা রাস্তা ও টিনশেড কক্ষেই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৫ সালে ভবন নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হলেও তা অনুমোদন পায়নি।
দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহমিদা হক স্মৃতি ও সাদিয়া জানান, আর্থিক সংকটের কারণে অনেকেই বাইরে গিয়ে পড়াশোনা করতে পারে না। কিন্তু কলেজে অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত রাস্তা সংস্কার ও ভবন নির্মাণের দাবি জানান।
দশমিনা উপজেলা আইনজীবী কল্যাণ সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট এনামুল হক রতন বলেন, নারী শিক্ষার প্রসারে প্রতিষ্ঠিত এ কলেজটির অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। শিক্ষার্থীদের চলাচলের রাস্তা দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. সোহরব হোসেন জানান, যোগদানের পর থেকেই তিনি রাস্তাটি সংস্কারের জন্য একাধিকবার আবেদন করেছেন। ভবন নির্মাণের জন্যও প্রস্তাব পাঠানো হলেও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। অবকাঠামোগত সংকটের কারণে শিক্ষার্থী ভর্তিতেও অনীহা দেখা যাচ্ছে।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শাহ আলম শানু বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অবহিত করেছে এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. মকবুল হোসেন জানান, ভবন নির্মাণের জন্য পুনরায় আবেদন পাঠানো হবে এবং রাস্তাটি সংস্কারের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, নারী শিক্ষার অগ্রগতির জন্য জরুরি ভিত্তিতে কলেজটির অবকাঠামো উন্নয়ন করা প্রয়োজন।
