
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ও ধুলিয়া ইউনিয়নে সংঘটিত পৃথক সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে বাউফল উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার। সংবাদ সম্মেলনে তিনি চন্দ্রদ্বীপ ও ধুলিয়া ইউনিয়নের সাম্প্রতিক সহিংসতার জন্য জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের দায়ী করে নানা অভিযোগ উত্থাপন করেন।
তিনি দাবি করেন, ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইতে গেলে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে বিএনপির সমর্থক ও পেশায় জেলে সুজন চৌকিদারের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত সাংবাদিক হাসান মেহেদির বাবাকে কেন্দ্র করে তার ছেলের মৃত্যুকে পুঁজি করে কিছু ব্যক্তি অপকর্মে জড়িয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বাসভাড়ার টাকা চাওয়া নিয়ে সৃষ্ট ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি বিএনপির। পাশাপাশি বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, গতরাতে ধুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে জামায়াতের কর্মীরা অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে।
অন্যদিকে, বিকেল ৩টার দিকে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত সাংবাদিক হাসান মেহেদির বাবা মোশারেফ হোসেনকে মারধরের ঘটনায় বিএনপিকে দায়ী করে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগীর স্ত্রী ও জামায়াত সমর্থক মাহামুদা বেগম। এ সময় জাতীয় ছাত্রশক্তির বাউফল উপজেলা কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে মোশারেফ হোসেনকে মারধর করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, একই সময় জামায়াতের নারী কর্মীদের হিজাব টেনে খুলে ছবি তোলা হয়েছে। বিএনপির প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদারের উস্কানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার কর্মীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত সাংবাদিক হাসান মেহেদির বাবা মোশারেফ হোসেনকে মারধরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অন্যান্য সহিংসতার ঘটনাগুলোও তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, মোশারেফ হোসেনকে মারধরের প্রতিবাদে শুক্রবার রাতে বাউফল পৌর শহরে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। অপরদিকে ধুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা পৃথক বিক্ষোভ মিছিল করেন।
