
মো. বেল্লাল হোসেন, দশমিনা প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচিতে বাধা প্রদান ও ভাঙচুরের ঘটনায় এক স্বাস্থ্য সহকারী আহত হয়েছেন। বুধবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নের ১০২ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের টাইফয়েড টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় ১৫-২০ জন উচ্ছৃঙ্খল যুবক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বলেন, “এই টিকা দিলে বাচ্চারা মারা যাবে, নানা রোগে আক্রান্ত হবে।” স্বাস্থ্যকর্মীরা বাধা দিলে তারা টিকা বক্স ও সিরিঞ্জ ভাঙচুর করে এবং স্বাস্থ্য সহকারী মো. ইমাম হোসেনকে মারধর করে আহত করে। পরে টিকাদান কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “টিকা দেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। হঠাৎ কিছু যুবক এসে হট্টগোল করে স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। এক পর্যায়ে তারা টিকা বক্স ভাঙচুর ও এক স্বাস্থ্য সহকারীকে মারধর করে আহত করে।”
চরবোরহান ইউনিয়নের প্রশাসক ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফারজানা ইয়াসমিন লিসা জানান, “ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।”
চরবোরহান ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ফরাদ আকন বলেন, “সাদেক মাতব্বরের ছেলে জামাল সরদার ও মনু সরদারের ছেলে জসিম সরদারসহ ১০-১২ জন যুবক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে গণ্ডগোল করে এবং স্বাস্থ্য সহকারীকে মারধর করে আহত করে।”
পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ খালিদুল রহমান মিয়া বলেন, “ঘটনার বিষয়ে জেনেছি। কিছু মানুষ না জেনে বিভ্রান্তি ছড়ায়। পটুয়াখালী জেলায় এখন পর্যন্ত টাইফয়েড টিকায় কোনো শিশু অসুস্থ হয়নি। অপপ্রচারে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ হবে না।”
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইরতিজা হাসান বলেন, “ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলীম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে জানানো হয়েছে। এলাকা দুর্গম হওয়ায় তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠানো সম্ভব হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে সরকারি কাজে বাধা ও হামলার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, “ঘটনার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”


