
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পটুয়াখালী জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ২৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিনিয়র নির্বাচন অফিসার ওহিদুজ্জামান মুন্সির কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে প্রার্থীরা জমা দিয়েছেন।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে চার আসনেই একাধিক রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এতে শুরু থেকেই নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে।
পটুয়াখালী-১ (সদর–মির্জাগঞ্জ–দুমকি) আসনে সর্বাধিক ৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন। বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি, খেলাফত মজলিশ, জাসদ-সমর্থিত জোট, জাতীয় পার্টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান, ইসলামী আন্দোলনের মো. ফিরোজ আলম, গণঅধিকার পরিষদের শহিদুল ইসলাম ফাহিম, এবি পার্টির মেজর (অব.) ডা. মোহাম্মদ ওহাব মিনার, খেলাফত মজলিশের মোহাম্মদ সায়েদুর, স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন মঞ্জু, জাসদ-সমর্থিত গৌতম চন্দ্র শীল এবং জাতীয় পার্টির আ. মন্নান হাওলাদার।
পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে মোট ৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, বিএনপি মনোনীত শহিদুল আলম তালুকদার, গণঅধিকার পরিষদের হাবিবুর রহমান, এবি পার্টির মো. রুহুল আমিন, খেলাফত মজলিশের মুহাম্মদ আইউব ও ইসলামী আন্দোলনের মালেক হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এই আসনে রয়েছেন বিএনপি সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাসান মামুন, জামায়াতে ইসলামের মুহাম্মদ শাহ আলম, ইসলামী আন্দোলনের মুহা. আবু বক্কর সিদ্দীকী, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম ফজলুল হক, গণঅধিকার পরিষদের মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিম এবং স্বতন্ত্র মিজানুর রহমান বাবু। শহিদুল ইসলাম ফাহিম পটুয়াখালী-১ ও পটুয়াখালী-৩ উভয় আসন থেকেই মনোনয়ন দিয়েছেন।
পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া–রাঙ্গাবালী) আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, খেলাফত মজলিশের মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক রাঙ্গাবালী উপজেলা চেয়ারম্যান খেলাফত ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ, ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপি মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, জামায়াতে ইসলামের মোহাম্মদ আবদুল কাইউম এবং গণঅধিকার পরিষদের মো. রবিউল হাসান।
জেলা নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে চূড়ান্ত নির্বাচনী মাঠ তৈরি হবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
উল্লেখ্য, পটুয়াখালী জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ১৫ লাখ ৯ হাজার ৫৮৯ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭ লাখ ৬১ হাজার ৯৮৬, নারী ভোটার ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৫ এবং হিজড়া ভোটার ১৮ জন। মনোনয়ন দাখিলের মধ্য দিয়ে পটুয়াখালী জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হওয়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।


