
মো. বেল্লাল হোসেন, দশমিনা (পটুয়াখালী):
মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের জন্য (৪–২৫ অক্টোবর) পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরঙ্গ নদীতে জারি হয়েছে সম্পূর্ণ মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা।
এই সময় নদীতে সকল প্রকার মাছ ধরা, আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
এ সময় নদী ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর, থানা পুলিশ, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও বাংলাদেশ নৌবাহিনী যৌথভাবে টহল পরিচালনা করছে।
উপজেলা মেরিন ফিশারিজ কর্মকর্তা নাজমুল হাসান জানান, “মা ইলিশ সংরক্ষণে এবার পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নদীতে টহল চলবে। আগের বছরের তুলনায় আইন আরও কঠোর করা হয়েছে—জেল ও জরিমানা উভয়ই বাড়ানো হয়েছে।”
শনিবার সকালে তেঁতুলিয়া নদীতে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও মৎস্য অধিদপ্তরের সদস্যদের যৌথ টহল দিতে দেখা গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরতিজা হাসান বলেন, “ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। বিশ্বের মধ্যে ইলিশ সংরক্ষণে বাংলাদেশই অগ্রগামী দেশ। এই অভয়াশ্রম কার্যক্রম শতভাগ সফল করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।”
থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আবদুল আলীম জানান, “ইলিশ রক্ষা করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। জেলেদের আইন ভাঙার সুযোগ দেওয়া হবে না। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ প্রশাসন মৎস্য দপ্তরের পাশে আছে।”
মৎস্য দলের সাধারণ সম্পাদক হবিবুর রহমান বলেন, “ইলিশ জাতীয় সম্পদ। এর সংরক্ষণে প্রশাসনের উদ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হবে। কেউ যদি আইন অমান্য করে মাছ ধরায় জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দশমিনা উপজেলার তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরঙ্গ নদীর প্রায় ৭–৮ কিলোমিটারজুড়ে চলবে এই টহল ও নজরদারি।
অভয়াশ্রমের সময় জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও সহায়তার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।


