
পটুয়াখালীর মহিপুর মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার এবং রাজনৈতিক হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করার অভিযোগ তুলেছেন কমিটির সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম এবং প্রচার সম্পাদক সাকিব আল হাসান রাফি।
৬ মে মঙ্গলবার রাতে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শামীম চৌধুরী এবং সদস্য সচিব জাকারিয়া আহম্মেদের স্বাক্ষরে মো. রবিউল ইসলামকে সভাপতি এবং আসিবুল হককে সাধারণ সম্পাদক করে ১০ সদস্যের একটি নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটি ঘোষণার পরপরই কলেজ ছাত্রদলের একাংশ নতুন কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে কমিটি বিলুপ্তির দাবি জানান।
এ পরিস্থিতিতে ৮ মে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করেন নবনির্বাচিত কমিটির নেতারা। লিখিত বক্তব্যে সাকিব আল হাসান রাফি বলেন, “৬ মে ঘোষিত কমিটিতে আমি প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছি। এর পর থেকে একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমাকে এবং আমার পরিবারকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। তারা দাবি করছে, আমি ২০২৩ সালে কলেজ ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক ছিলাম—যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং হাস্যকর।”
রাফি আরও বলেন, “আমি কখনোই আওয়ামী লীগ বা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। তারা যেই কমিটির তালিকা প্রকাশ করেছেন, সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি ছাত্রদলের আদর্শে বিশ্বাসী একজন সক্রিয় কর্মী। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে বিতর্ক ছড়ানো হচ্ছে, তার উৎস একটি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ছবি। ওই ছবি ২০২৩ সালে একটি রাষ্ট্রীয় দিবসে তোলা, যেখানে আমাকে ছাত্রলীগের কিছু কর্মী জোরপূর্বক শ্রদ্ধা জানাতে বাধ্য করেছিল। সেই ছবি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের এক নেতা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ওই ছবিকে ব্যবহার করে ছাত্রদলের রাজনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। এটি একটি ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র।”
রবিউল আরও বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২০২২ সালে মহিপুর সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। আমার ত্যাগ, অভিজ্ঞতা এবং কার্যক্রমের ভিত্তিতে জেলা কমিটি আমাকে কলেজ শাখার সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করেছে।”
নবনির্বাচিত নেতারা বলেন, “প্রকৃতপক্ষে যারা পদবঞ্চিত হয়েছেন, তারা নানা মিথ্যা অভিযোগ তুলে কমিটি বিলুপ্তির দাবি করছেন, যা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।”


