
ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীতে চলছে প্রকাশ্যে ইলিশ ধরা ও বিক্রির মহোৎসব। নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী ইলিশের হাট, যেখানে প্রতিদিনই চলছে মাছ কেনাবেচা।
মৎস্য অধিদফতর ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকায় অসাধু জেলেরা অবাধে জাল ফেলছে। তাদের জালে উঠছে ডিমওয়ালা ও ছোট আকারের ঝাটকা ইলিশ।
গতকাল (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ধুলিয়া লঞ্চঘাট এলাকায় দেখা যায়, এক পাশে পুলিশ পাহারা থাকলেও অপর পাশে নদীর তীরেই চলছে প্রকাশ্যে ইলিশ বিক্রি। স্থানীয়রা খোলামেলাভাবে মাছ কিনে ব্যাগে ভরে বাড়ি নিচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় প্রতিদিনই চলছে এমন চিত্র। এতে একদিকে যেমন ইলিশের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে হুমকিতে পড়ছে ইলিশের উৎপাদন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিষেধাজ্ঞার সময় এভাবে ইলিশ ধরা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দেশের বাজারে ইলিশের ঘাটতি দেখা দেবে, ফলে দামও বেড়ে যাবে।
বাউফল উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, ইলিশ শিকারের অপরাধে এখন পর্যন্ত ৯২টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং ১৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়েছে। এতে ৭৬ জন জেলেকে শাস্তি দেওয়া হয়— ২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, ৩৫ জনকে অর্থদণ্ড এবং ১৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক জেলেকে মুচলেকা রেখে মুক্তি দেওয়া হয়। জরিমানার পরিমাণ ৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এম এম পারভেজ বলেন, “তেঁতুলিয়া নদী খুব বড় হওয়ায় সব জায়গায় একসঙ্গে অভিযান চালানো সম্ভব হয় না। সুযোগ পেয়ে কিছু অসাধু জেলে মাছ শিকার করেন। আমরা কাউকেই ছাড় দিচ্ছি না। বাজার মিলিয়ে ইলিশ বিক্রির বিষয়টি খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


