
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় নিখোঁজের দুই দিন পর নিজ বাড়ির রান্নাঘরের বারান্দা থেকে এক স্কুলছাত্রীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাঝনেতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এবং পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে গুমের চেষ্টা করা হয়। ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ।
নিহত শিশুটির নাম আয়েশা মনি, বয়স সাড়ে ১১ বছর। সে রাঙ্গাবালী ছালেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। আয়েশা তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। তার বাবা বাবুল প্যাদা পেশায় দিনমজুর এবং মা আছমতারা দীর্ঘ ৯-১০ বছর ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করছেন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেল থেকে আয়েশা মনি নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। শনিবার দুপুরে রাঙ্গাবালী থানায় আয়েশার নিখোঁজের ঘটনায় তার বাবা বাবুল প্যাদা বাদী হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে রোববার বেলা ১১টার দিকে পুলিশের তল্লাশিতে তাদের নিজ বসতবাড়ির রান্নাঘরের বারান্দায় রাখা একটি বস্তার ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসময় মরদেহটি বস্তার ভেতর দুমড়েমুচড়ে ছিল।
এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী। নিহত শিশুটির বড় বোন সাথী বেগম বলেন,
‘আমি মাদারীপুরে ছিলাম। বোন নিখোঁজের খবর পেয়ে বাড়িতে আসি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাইনি। পরে পুলিশ রান্নাঘরের বারান্দায় বস্তার ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।’
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় করে এবং স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যু কিভাবে হয়েছে, তা জানা যাবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’


