
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের দপ্তর সম্পাদক ফয়সাল পঞ্চায়েতকে আটক করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। সোমবার (০১ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে ডিবি’র একটি দল তাকে আটক করে। দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পটুয়াখালী ডিবি’র অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জসিম উদ্দিন।
এদিকে, সাম্প্রদায়িক সময়ে বাউফলের ইউএনও আমিনুল ইসলামের যোগসাজশে সরকারি খাস জমি ১ বছরের জন্য কৃষকদের চাষাবাদের অনুমতির দেয়ার নামে জনপ্রতি ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ওঠে আটক ফয়সাল পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে গত দুইদিন ধরে ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন তিনি।
জানা গেছে, খাস জমির অবৈধ বাণিজ্য নিয়ে ইউএনও’র দালাল উল্লেখ করে ফয়সাল পঞ্চায়েতসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর একাধিক লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
একটি সমবায় সমিতির সদস্য আবদাল হোসেন বলেন, ‘আমরা ১৫০ একর জমি নিয়েছি বিনিময়ে ইউএনওকে পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছি।’
চন্দ্রদ্বীপ এলাকার কৃষক মো. শাহীন বলেন, ‘আমি পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে এক একর জমি পাইছি। ইউএনও স্যারে য্যার (যার) তোন (থেকে) য্যা (যা) লইয়া পারছে। আর যে যে দিয়া পারছে। এই কারোণে কেউর পাঁচ আজার আবার কেউর ছয় আজার, কেউ ২০ আজার, কেউ আবার ২৫ আজার টাহা দিয়া কেনছে।’
এ বিষয়ে নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের কৃষক রুহুল রাড়ি বলেন, ‘আমি ১৫ একর জমি তরমুজ চাষের জন্য ফয়সালের কাছ থেকে ক্রয় করেছি। একর প্রতি ২৫ হাজার টাকা নিয়েছে ফয়সাল। ১৫ একরে তিন লাখ টাকা দিয়েছি। এখনও ৭৫ হাজার টাকা বাকি রয়েছে।’
একই ইউনিয়নের আরেক কৃষক রাসেল হোসেন বলেন, ‘ফয়সাল দুই একর জমি বাবদ আমার কাছ থেকে ৪৮ হাজার টাকা নিয়েছে। দেয়ালে আমার পিঠ ঠেকে গেছে বাধ্য হয়ে আমি ৪৮ হাজার টাকা দিয়া জমি কিনছি।’
উল্লেখ্য, জমি চাষাবাদের অনুমতি দেয়ার প্রক্রিয়া সঠিক ছিলো না। জমির বরাদ্দ বাদক রাষ্ট্রীয় কোষাগারে একটি টাকাও জমা দেয়া হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা ভূমি অফিস।
পটুয়াখালী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ডেভিল হিসেবে তাকে আটক করা হয়। কিছু বিষয় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। বাউফল থানা থেকে ডকুমেন্টস পাঠানোর পরে আগামীকাল (মঙ্গলবার) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলেও জানান তিনি।


