
সুমন মৃধা,দুমকিঃ
পটুয়াখালীর বগা ফেরিতে ইজারা বাতিল হলেও ‘বকশিশের’ নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী পরিবহন থেকে হাজার হাজার টাকা অবৈধভাবে আদায় হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ফেরি পরিচালনার দায়িত্বে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের চার-পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকলেও অতিরিক্ত আরও ১০ জন স্থানীয় লোকজনকে দায়িত্বে বসানো হয়েছে। তারা সিন্ডিকেট গড়ে পরিবহন থেকে বকশিশ আদায় করছে।
ফেরির দায়িত্বে থাকা কর্মচারীদের মধ্যে আছেন কার্যসহকারী মোস্তাফিজুর রহমান, ওয়ার্ক সুপারভাইজার এনামুল, গ্রীজার সেলিম এবং শ্রমিক সাব্বির। আর বকশিশ আদায়কারী সিন্ডিকেটে রয়েছেন শাহী (প্রধান ক্যাশিয়ার), বাদল (দ্বিতীয় ক্যাশিয়ার) এবং সহযোগী হিসেবে রফিক, কাইয়ুম, নুরুজ্জামান, রাকিব, কবির, জাফর, জুলহাস, সালেহ ও শাহ আলম।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ১০০টি যাত্রীবাহী বাস থেকে ৫০ টাকা করে আদায় হয় ৫ হাজার টাকা। প্রায় ৫০টি ট্রাক থেকে একইভাবে ওঠে আরও ২ হাজার ৫০০ টাকা। মিনিবাস, পিকআপ, কভার্ড ভ্যান, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, অটোরিকশা ও টমটমসহ সব মিলিয়ে প্রতিদিন অন্তত ১৬ থেকে ২০ হাজার টাকা তুলছে এই সিন্ডিকেট।
বাউফল-ঢাকা রুটের পরিবহন সুপারভাইজার কবির হোসেন অভিযোগ করেন, “বকশিশ না দিলে ফেরির লোকজন গাড়ি আটকে নাজেহাল করে।”
পিকআপ চালক মোশাররফ বলেন, “গাড়ি ফেরিতে তুললেই শ্রমিকরা সামনে দাঁড়িয়ে বকশিশ দাবি করে। টাকা না দিলে কয়েকজন একসঙ্গে তেড়ে আসে। বাধ্য হয়ে দিতে হয়।”
একই অভিযোগ করেছেন মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা চালকেরাও। তাদের দাবি, সরকারি ভাড়া ৫ টাকা থাকলেও বকশিশের নামে অতিরিক্ত ১০ থেকে ২০ টাকা গুনতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, নির্ধারিত ভাড়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত টাকা দিতে হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী সওজ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামিল হোসেন বলেন, “জনবল সংকটের কারণে স্থানীয় ৭-৮ জনকে টোল আদায়ের কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। বকশিশ বাণিজ্য হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


