
স্টাফ রিপোর্টারঃ পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ অভিযোগ করেছেন, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর একটি ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি বলেন, সরকারের বক্তব্য ও কার্যক্রমের মধ্যে অসঙ্গতি স্পষ্ট।
সোমবার (৪ মে) দুপুরে বাউফল উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মাসুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনসভায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের অনীহা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, এতে বোঝা যায় সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আন্তরিক নয়, বরং আন্দোলনকে অস্বীকার করে নতুন করে স্বৈরাচারী ধারায় এগোচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “সংসদে আমাকে দুই দফায় মোট ১৬ মিনিট কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত আমি জুলাই শহীদদের স্মরণ এবং গণভোট বাস্তবায়নের দাবি উত্থাপনে ব্যয় করেছি।”
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, “আমার চতুর্থ সন্তান দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন। কিন্তু আমি তার কবর চিহ্নিত করতে পারিনি, এমনকি জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগও পাইনি।” তিনি দাবি করেন, জুলাইয়ের অনেক শহীদের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি বিদ্যমান।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তন ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। “এমপি দিয়ে কিছু হবে না, সিস্টেম পরিবর্তন না হলে উন্নয়ন টেকসই হবে না,” যোগ করেন তিনি।
ড. মাসুদ অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ‘উন্নয়ন’ কথার আড়ালে ভোট, বিচার ও সংস্কারের বিষয়গুলো আড়াল করা হয়েছে। বর্তমানে একটি ‘যেকোনোভাবে নির্বাচন’ আয়োজনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমাদের মূল ভিত্তিই যদি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে অবস্থান কোথায় থাকবে? তাই এখনই ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি।”
তিনি জানান, বাউফলে জুলাই শহীদ পরিবারের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং আহতদেরও বিভিন্নভাবে সহায়তা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাউফল উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম। এতে আরও বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালী জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি আরিফুর রহমান, সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ, জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী ফাতেমা জামান সামিয়া, তুহিন ফরাজি, জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক রুহুল আমিন এবং জুলাই শহীদ সাংবাদিক মেহেদী হাসানের বাবা মোশারেফ হোসাইনসহ অন্যান্যরা।


