
গলাচিপা প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালী-৩ সংসদীয় আসনে হিন্দু-মুসলমান, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হাসান মামুন।
রবিবার বিকেল ৪টায় গলাচিপা মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী প্রচারণার শেষ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসান মামুন বলেন, “আমরা উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে নির্বাচনে এসেছি। ফেরিঘাট ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ হতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং আমরা সবসময় জনগণের পাশে থাকব।”
তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের অধিকার সমান। সাম্প্রদায়িক উস্কানির বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি এবং প্রতিটি ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা হবে।
বিএনপির মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শুরু থেকেই পটুয়াখালী-৩ আসনের মনোনয়ন নিয়ে নানা তালবাহানা ও রাজনৈতিক খেলা চলেছে। একপর্যায়ে দেখা গেল, বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হলো সম্পূর্ণ গণবিচ্ছিন্ন ও অজনপ্রিয় একটি জোটের নেতাকে। এই পরিস্থিতিতে গলাচিপা উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি ও সকল সাংগঠনিক ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ সর্বসম্মতিক্রমে আমাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে অনুরোধ করেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমি দল থেকে পদত্যাগ করার পরও আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবুও দলীয় সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে গণমানুষের পাশে থেকে নির্বাচনের পথে অটল থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। উপজেলা, অঙ্গসংগঠন, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে, হাজার হাজার নেতাকর্মী পদবঞ্চিত হয়েছেন। এরপরও আমরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও বিজয়ের শপথ নিয়েছি।”
হাসান মামুন অভিযোগ করেন, ইতোমধ্যে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র, হয়রানি ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “সব বাধা উপেক্ষা করেও একটি নিরাপদ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই আপনারা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেবেন।”
তিনি বলেন, “আজ আমাদের কর্মীদের ওপর বিভিন্ন স্থানে হামলা ও হয়রানি হয়েছে। তবুও আমাদের কর্মীরা মাঠে আছে। মনে রাখবেন—জনসমুদ্রের উত্তাল ঢেউ বালু দিয়ে আটকে রাখা যায় না। আগামী নির্বাচনে আপনারাই আপনাদের প্রার্থীকে বিজয়ী করবেন এবং একটি নতুন গণতান্ত্রিক অধ্যায়ের সূচনা হবে।”
স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য দেন গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার হাওলাদার, অ্যাডভোকেট মো. শামীম, সাংবাদিক ইশরাত হোসেন লিপটন, অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান হিরন এবং দশমিনা উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ডলি খানম প্রমুখ।
জনসভা শেষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের নেতৃত্বে গলাচিপা পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি নির্বাচনী শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়।
