
এমরান হাসান সোহেল, বিশেষ প্রতিনিধি:
এমপি পদ শূণ্য, নাই উপজেলা চেয়ারম্যান, শূন্য রয়েছে পৌর মেয়রের পদও। তাই সকল ক্ষমতার দেখভালের দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার(ইউএনও)। এ কারণে কাউকে থোরাই কেয়ার না করে লুটপাট আর গরিবের নামের বরাদ্ধের মালমাল অর্থকড়ি লুটপাট চলছে চোখ বুঝে, চাল সংগ্রহে অনিয়ম করে বাজারের নিন্মামানের চাল গুদামজাত করা হয়েছে। বিকল স্পীড বোট সচল না করে এর ব্যবহার দেখিয়ে স্পীড বোডের জ্বালানীর ভাউচার দিয়ে তুলে নেয়া হয়েছে লাখ লাখ টাকা। গরিবের নামে বরাদ্ধকৃত শীত বস্ত্র কেনার বরাদ্ধের টাকা দিয়ে শীতবস্ত্র না কিনে তা গিলে হজম করে ফেলেছেন। দূর্যোগকালীন সময়ে বরাদ্ধকৃত অসহায় মানুষের ত্রানের চাল বিক্রি করেও পকেট ফুলিয়ে ফেলেছেন। ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে রাজস্ব উন্নয়ন তহবিলের প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রকল্পে ব্যাপক লুটপাটের প্রামান পাওয়া গেছে। খাস জমিতে চাষের অনুমতি দিয়ে রাজস্ব জমা না দিয়ে কৃষকের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন প্রায় এক কোটি ২৫ লাখ টাকা। এছাড়াও ত্রানের টাকা টিআর, কাবিখা, কাবিটা এবং এডিবির কাজে অনিয়ম করে লুটপাটের প্রমান মিলেছে ‘খবর পটুয়াখালীর’ অনুসন্ধানে। আর এ লুটপাটকারী হচ্ছেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ইউএনও আমিনুল ইসলাম। তার বির্তকীত কর্মকান্ডের কারণে ইতিমধ্যে ওই উপজেলায় তার অপসারণ দাবী করে মানববন্ধনসহ ঝাড়ু মিছিল পর্যন্ত হয়েছে। আর পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় মিলেছে অনুসন্ধানে মিলিছে শুধুই দুর্নীতির খতিয়ান।
শীতার্থের অনুকূলে বরাদ্ধের টাকা আত্মসাৎঃ
বাউফল পৌরসভার মেয়রের দায়িত্বে প্রশাসক হিসাবে রয়েছেন ইউএনও আমিনুল ইসলাম। অথচ এ পৌরসভার অনুকূলে গত শীত মৌসুমে গরিব মানুষের জন্য শীতবস্ত্র কিনে বিতরনের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্ধ দেয় ত্রান ও দূর্যোগ মন্ত্রনালয়। ওই টাকা দিয়ে শীত বস্ত্র না কিনে গরিবদের না দিয়ে বরাদ্ধের পুরো টাকাই আতœসাৎ করেন আমিনুল।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় সূত্রে জানাগেছে, ত্রান মন্ত্রনালয়ের (উপসচিব) উপপরিচালক (ত্রান-১) ওই বছরের ১৯ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে ক্যাটাগরি অনুযায়ী দেশের ৬৪ জেলার ৩৩০টি পৌরসভায় ৫ কোটি, ৬৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেন শীত বস্ত্র কিনে অসহায় গরিবদের মাঝে বিতরণের জন্য। এর মধ্যে বাউফল পৌরসভায় দেয়া হয় দুই লাখ টাকা। শীতে কম্বল কেনার টাকা আমিনুল পৌরসভার হিসাব নম্বরে জমা না দিয়ে মে মাসে অন্য একটি হিসাব নম্বরে জমা দিয়ে তা আতœসাৎ করেন এবং কম্বল কেনার বিল ভাউচার তৈরী করে অফিসিয়ালী জমা দেন। এদিকে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে কোথাও একটি কম্বল বিতরণ করা হয় নি। এ ব্যাপারে পৌরসভায় কর্মরত কোন কর্মকর্তা কর্মচারী কোন মন্তব্য করতে রাজি হন নি এ প্রতিবেদককের কাছে। ওই স্বয়িত্বশাষিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একাধিক কর্মী পতাকার প্রতিবেদককের কাছে গোপন বলেন, ‘উনি (ইউএনও স্যার) আমাদের বর্তমানে প্রশাসক, কেউ তার বিরুদ্ধে কম্বলের টাকা চুরি নিয়ে কথা বলবে না। কারণ এখানে যারা পদোন্নতি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের এসিআর ইউএনও স্যারের কাছে। এ ব্যাপারে তারা তথা বললে তাদের বারোটা বাজিয়ে দিবে। কম্বলের টাকা চুরির বিষয়টি সবাই জানে।’
ত্রানের চাল চুরি:
দূর্যোগকালীন বিতরণের জন্য বরাদ্ধকৃত সাধারণ রিলিফ (জিআর) ত্রানের ২৩ মেট্রিকটন চাল চুরি করে বিক্রি করার প্রমান পাওয়া যায় ‘খবর পটুয়াখালীর’ অনুসন্ধানে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় সূত্রে জানাগেছে, বাউফল উপজেলার চলতি বর্ষা মৌসুমের দূর্যোগ মোকাবেলার জন্য ২৪ অক্টোবর ২০২৪ তারিখ জেলা ত্রান ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা সুমন চন্দ্র দেবনাথ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মোট ৮০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্ধ দেয়। এরমধ্যে বাউফল উপজেলায় বরাদ্ধ দেয়া হয় ১০ মেট্রিকটন জিআর। ২০২৫ সালের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আগাম এ চাল বরাদ্ধ দেয়া হয়। একই উদ্দেশ্যে জেলা ত্রান ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা এসএম দেলোয়ার হোসেন ২৯ মে স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে ৮৪ মেট্রিকটন চাল বরাদ্ধ দেয় জেলার ৮ উপজেলায়। এরমধ্যে বাউফল উপজেলায় বরাদ্ধ দেয়া হয় ১২ মেট্রিকটন জিআর এর চাল। আবার ৩১ মে ২০২৫ তারিখ স্বাক্ষরিত জেলা ত্রান ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা এসএম দেলোয়ার হোসেন জেলার পাঁচ উপজেলায় ২৫ মেট্রিকটন জিআর চাল বরাদ্ধ দেন। এরমধ্যে বাউফল উপজেলায় বরাদ্ধ দেয়া হয় পাঁচ মেট্রিকটন চাল। গত অর্থবছরের রিজার্ভ ১০টন এবং বর্তমান অর্থবছরের বরাদ্ধসহ দূর্যোগকালিন জিআর মোট রিজার্ভ ছিল ২৭ মেট্রিকটন। প্রতিটি চিঠিতে দূর্যোগকালীন সময়ে অসহায় মানুষের মাঝে ওই চাল বিতরণের কথা উল্লেখ রয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে তেমন একটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়নি। তবে মে মাসের শেষের দিকে এবং জুন মাসে উত্তরাঞ্চলের ঢলের পানির তোড়ে এবং প্রায় একই সময়ে বঙ্গোপসাগরে কয়েকটি নিন্ম চাপের প্রভাবে বাউফলের তেঁতুলিয়া নদী তীরবর্তী ধূলিয়া, নাজিরপুর এবং চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের অংশ বিশেষ এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। ওইসব এলাকায় নাম মাত্র কিছু ত্রান বিতরণ করেছেন ইউএনও আমিনুল। ত্রান আদৌ না দিয়ে উপজেলার বাকি ১২ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে মাষ্টাররোল তৈরী করেন ত্রান বিতরণের নামে। ওই ১২ ইউপির চেয়ারম্যানদের মধ্যে ৭জন চেয়ারম্যান খরব পটুয়াখালীকে জানান, ইউএনওর বিরুদ্ধে এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ করে কথা বলতে পারবো না। ত্রান না দিয়েও তিনি আমাদের কাছ থেকে কোন ইউনিয়ন থেকে ৩০০ এবং কোন ইউনিয়ন থেকে ৪০০ এর অধিক ত্রান বিতরণের মাষ্টাররোল তৈরী করে নিয়েছেন।
চাল বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত হতে ‘খবর পটুয়াখালীর’ অনুসন্ধান চালায় ওই উপজেলার কালাইয়া খাদ্য গুদামে। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কোন ভাবেই তাদের কাছ থেকে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে জিআর বিক্রির তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রালয় এবং জেলা কার্যালয় থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য কাজ শুরু করলে ত্রানের জিআর চাল চুরি করে বিক্রির প্রমান পাওয়া যায়। মন্ত্রনালয় এবং জেলা খাদ্য খাদ্য অফিসের রেজিষ্ট্রার খুঁজে সন্ধান পাওয়া যায় জুন জুলাই মাসে ৮ টন এবং ১৫ টন দূর্যোগকালিন সহায়তার জিআর চাল বিক্রি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ইউএনও। তাই এ চালের মালিকও তিনি। তার ডিউ লেটার ছাড়া এ চাল বিক্রির কোন সুযোগ নাই। চলতি অর্থ বছরে সরকারি চাল বিক্রি দর ধার্য করা হয় ৫৮ হাজার টাকা প্রতিটন। ফলে ২৩ মেট্রিকটন ত্রানের চাল বিক্রি করে ১৩ লাখ ৩৪হাজার টাকা করে আত্মসাৎ করেছেন।
চাল সংগ্রহে কোটি টাকার ঘুষ বানিজ্য:
বোর সংগ্রহ ২০২৫ উপলক্ষ্যে বাউফল উপজেলায় ১১৭৬ মিট্রিকটন চাল সংগ্রহ করা হয়। এরমধ্যে বাউফল উপজেলার বগা খাদ্য গুদামে ৯৩৬ মেট্রিকটন এবং কালাইয়া খাদ্য গুদামে ৭৮০ মেট্রিকটন চাল গুদামজাত করা হয়। চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল থেকে ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত ওই বোর সংগ্রহ চলে। অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী চাল সংগ্রহ কমিটির ওই উপজেলা সভাপতি ইউএনও। সব কিছু যাচাই বাছাইয়ের মূল দায়িত্ব ইউএনওর। সরকার নির্ধারিত ৪৯ টাকা কেজি দরে এ চাল সংগ্রহ করে। ফলে ১১৭৬ মেট্রিকটন চাল ক্রয়ে সরকারের ব্যয় করে ৫৭কোটি ৬লাখ ২৪ হাজার টাকা। চাল সংগ্রহ অভিযানকে কাজে লাগিয়ে কোটি টাকা আতœসাৎ করেছেন ক্রয় কমিটির সভাপতি ইউএনও। অনুসন্ধানে জানাগেছে চাল ক্রয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের বি-নির্দেশ আদৌ মানা হয় নি। নির্দেশনা অনুযায়ী চালের গুনগত মান সম্পর্কে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে এক কেজি চালের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫টি ভাঙা দানা এবং ৫টি বিবর্ন দানা থাকতে পারে। কিন্তু সরেজমিনে ওই দুই খাদ্য গুদামে গিয়ে একাধিক বস্তা খুলে দেখা গেছে এক কেজি চালের মধ্যে ভাঙা দানা তিন ভাগের এক ভাগ এবং বিবর্ন দানা সীমাহীন। এ ছাড়াও খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর একাধিক ডিলার পয়েন্টে গিয়েও এসব নি¤œ মানের চাল দেখা গেছে। উপকারভোগিরা জানান এত নিন্ম মানের চাল, প্রতিকেজির বাজার মূল্য ৩৬ থেকে সর্বোচ্চ ৩৭ টাকা হতে পারে। ফলে নিন্ম মানের চাল সংগ্রহ করে কেজি প্রতি ১৩ টাকা আতœসাৎ করেছেন ক্রয় কমিটির সভাপতি ইউএনও আমিনুল। ওই হারে তাঁর সরকারি টাকা আতœসাতের পরিমান ১ কোটি ৫২ লাখ ৮৮ হাজার। এ ব্যাপারে চাল সংগ্রহের সাথে জড়িত কেউ কোন কথা বলতে রাজি হয় নি। নাম গোপন রাখার শর্তে উপজেলা খাদ্য অফিসে কর্মরত একজন বলেন, ‘সব করেছে ইউএনও স্যার জবাব তার কাছ থেকে নেন।’
রাজস্ব উন্নয়ন প্রকল্পে ঘুষ বানিজ্য:
ব্যাপক অনিয়ম করে ঘুষ বানিজ্যের মাধ্যমে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব উন্নয়ন তহবিল থেকে ৫৬৪টি প্রকল্প গ্রহন করা হয়। যেসব প্রকল্প অনিয়মে ভরা। ৩১ জুলাই এর ওই সভাটি অনুষ্ঠিত হয় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে। সভায় উন্নয়নমূলক যেসব প্রকল্প গ্রহন করা তা নিয়ে বির্তর্কের শেষ নাই। ওই তারিখের স্বাক্ষরে প্রকল্পগুলো অনুমোদন করা হয়। সরকারের বিধিতে কোন সরকারি নিবন্ধনকৃত ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠানে সরকারের রাজস্ব তফবিল থেকে কোন উন্নয়নমূলক কাজ না করার বিধান থাকলেও তিনি তা মানেন নি। বরং উল্লেখিত প্রকল্পের মধ্যে ১২০, ১২১ এবং ১২২ নম্বর সিরিয়ালের তিনটি কাজ দেয়া হয়েছে নন রেজিস্ট্রার তিনটি প্রতিষ্ঠানে। ১২০ নম্বরের প্রকল্পে উল্লেখ করা হয়েছে বাউফল সাংবাদিক ক্লাবের জন্য আসবাবপত্র, অফিস সরঞ্জামাদি ও বৈদ্যুতিক মালামাল সরবারহ। যার ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ টাকা। ১২১ নম্বর প্রকল্পে উল্লেখ করা হয়েছে বাউফল মিডিয়া কর্নারে আসবাবপত্র সরবারহ। এর ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা। ১২২ নম্বর প্রকল্পে উল্লেখ করা হয়েছে বিডি ফেস ডট কমে আসবাবপত্র সরবারহ। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লাখ টাকা। এ প্রতিষ্ঠানের সরকারি কোন নিবন্ধন নাই। জেনে বুঝে বিধি না মেনে সরকারি অর্থের এ প্রকল্প বরাদ্ধ অবৈধ। অর্থ আত্মসাৎ এবং ঘুষ বানিজ্যের কৌশল হিসাবে ইউএনও আমিনুল এমনটি করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। রাজস্ব তহবিলের অর্থ দিয়ে জরুরী প্রয়োজনে কেনাকাটা বা উন্নয়নমূলক কাজ দূর্যোগকালিন সময়ে করা যাবে। এ ক্ষেত্রে আরএফকিউ পদ্ধতি ব্যবহার করে উন্নয়নমূলক ওই কাজ করা যাবে। দূর্যোগকালিন কোন পরিস্থিতি না থাকা স্বত্ত্বেও তিনি উল্লেখিত তালিকায় পাঁচ লাখ করে ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে মোট ৫টি প্রকল্প নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে এসব প্রকল্পের বিনিময়ে তিনি আর্থিক সুবিদা নিয়েছেন। এছাড়াও ১৮১টি সিপিসির মাধ্যমে প্রকল্প নিয়েছেন অধিকাংশ প্রকল্প দেড় থেকে দুই লাখ টাকা ব্যয়ের। প্রতি প্রকল্প থেকে ২০ হাজার করে ঘুষ বানিজ্য করেছেন ইউএনও আমিনুল। ২০ হাজার করে ১৮১ প্রকল্প থেকে আমিনুল ঘুষ বানিজ্য করেছেন ৩৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। ঘুষ বানিজ্যের জন্য সিপিসি প্রকল্পগুলোতে অর্থ বরাদ্ধ বেশী দিয়েছেন। আর দরপত্রের প্রকল্পগুলো অধিকাংশ ৮০ হাজার কিংবা এক লাখ টাকার নিচে অংক বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। প্রকল্প পাওয়া একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা হয়। সিপিসির মাধ্যমে দুই লাখ টাকার প্রকল্প পাওয়া, মো. বাচ্চু, মো. জাহিরুল ইসলাম, মো. আশরাফ হাওলাদার এবং মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি প্রকল্প পেয়েছি। সবার কাছ থেকেই ২০ হাজার করে টাকা নেয়া হয়েছে। যে টাকা দিতে পেরেছে সেই প্রকল্প পেয়েছে। টাকা ছাড়া কোন প্রকল্প সে দেয় নাই।’ কার হাতে টাকা দিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘কাজের জন্য ইউএনওর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি তার কার্যালয়ের আনিচ এবং নাসিরের সাথে যোগাযোগ করতে বলতেন। আমরা তাদের কাছে ২০ হাজার করে টাকা দেয়ার পর তারা আমার ইউএনও সাহেবের সাথে কথা বলে আমাদের কাজ দিয়েছেন।’ রাজস্ব উন্নয়ন তহবিল থেকে মোট নয় কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার আট টাকার প্রকল্প নেয়া হয়। এর মধ্যে পাঁচ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে সিপিসির মাধ্যমে প্রকল্প নেয়া হয় ঘুষ বানিজ্যের জন্য। তার ওই ঘুষের পরিমান ৩৬ লাখ ২০ হাজার।
খাস জমি বিক্রিতে কোটি টাকার ঘুষ বানিজ্য:
নদী বেষ্টিত বাউফল উপজেলা। এ উপজেলায় নতুন চর জেগে প্রায় তিন হাজার একর খাস জমি চাষাবাদের উপযোগী। এরমধ্যে প্রায় দুই হাজার ৫০০ একর জমি চাষের অনুমতি দিয়েছেন। জমিগুলো বন্দোবস্ত না হওয়ায় জমিগুলোতে ডিসিআর (ডপ্লিকেট কার্বন রিসিট) না দিয়ে চাষের অনুমতি দিয়ে প্রায় এক কোটি ২৫ লাখ টাকার ঘুষ বানিজ্য করেছেন ইউএনও আমিনুল। ফলে সরকার বঞ্চিত হয়েছে মোটা অংকের রাজস্ব থেকে। ‘খবর পটুয়াখালীর’ অনুসন্ধানে জানাগেছে, চাষের অনুমতি পত্র দিয়ে প্রত্যেক চাষির কাছ থেকে একর প্রতি কারও কাছ থেকে পাঁচ হাজার আবার কারও কাছ থেকে ছয় টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন ইউএনও আমিনুল। ফলে গলা কাটা পড়েছে কৃষকের। ইউএনও আমিনুল তিনি তার দালালদের মাধ্যমে চাষিদের কাছ থেকে নিয়েছে ২৫ হাজার টাকা করে। কেন একর প্রতি এক বছরে চাষিরা ২৫ হাজার টাকা দিয়ে খাস জমি ক্রয় করেছে এর অনুসন্ধানে জানাগেছে চরাঞ্চলের এ জমিগুলোতে মৌসুমী ফল তরমুজ আবাদ করা হয়। তাই তারা প্রকল্পের পরিধি অনুযায়ী ব্যক্তি মালিকানা জমির পাশাপাশি সরকারি এ খাস জমি নিয়ে প্রকল্প বাড়িয়ে নেন। এ কারণে বাধ্য হয়ে তরমুজ চাষিরা একর প্রতি ২৫ হাজার টাকা দেন। চাষের অনুমতি দেয়ার বিনিময়ে উল্লেখিত ঘুষ বানিজ্য করলেও সরকারি হিসাব অনুযায়ী একর প্রতি ৫০০ টাকা হারে ডিসিআর বাবদ রাজস্ব হিসাবে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা কোষাগারে জমা হওয়ার কথা। কিন্তু চলতি আমন মৌসুমে কোন টাকাই জমা হয়নি। ২০২৪ সালে দেশের পট পরির্বতনের ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাত্র ২০০ একর জমির ডিসিআর দিতে সক্ষম হয়। এর আগে অতীত দিনগুলোতে ৭০০ থেকে ৮০০ একর করে ডিসিআর দিয়ে আসছিল ভূমি অফিস। তবে বাকি খাস জমিগুলো ওই উপজেলার, কেশবপুর, নাজিরপুর, কালাইয় ও চন্দ্রদ্বীপের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা স্থানীয় এমপির নির্দেশে ভাগ ভাটোয়ারা করে ভোগ দখল করত। এদিকে ইউএনও আমিনুল পাঁচটি শর্ত দিয়ে তার স্বাক্ষরে চাষের অনুমতি দিয়েছেন। আর শর্তের মধ্যে চালাকি করে আমিনুল এক নম্বরে উল্লেখ করেন ‘উক্ত প্রত্যয়ন শুধু এক মৌসুমের জন্য প্রযোজ্য হবে। সরকারি ডকুমেন্ট হিসাবে কোন আদালতে উপস্থাপনযোগ্য নয়।’ একটি ভূমিহীন সমবায় সমিতির সদস্য আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমরা ১৫০ একর জমি নিয়েছি বিনিময়ে ইউএনওকে পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছি।’ চন্দ্রদ্বীপ এলাকার মো. আসাদুল বলেন, ‘ছয় হাজার টাকার বিনিময়ে আমি এক একর জমি পেয়েছি।’ একই এলাকার মো. শাহীন বলেন, ‘আমি পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে এক একর জমি পাইছি। ইউএনও স্যারে য্যার (যার) তোন (থেকে) য্যা (যা) লইয়া পারছে। আর যে যা দিয়া পারছে। এই কারণে কেউর পাঁচ আজার আবার কেউর ছয় আজার, কেউ ২০ আজার, কেউ আবার ২৫ আজার টাহা দিয়া কেনছে।’ খাস জমির অবৈধ বানিজ্য নিয়ে তার(ইউএনওর) কয়েকজন দালালের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ করা হলেও ওইসব অভিযোগের কোন অগ্রগতি নাই। চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের রুহুল রাড়ি বলেন, ‘আমি ১৫ একর জমি তরমুজ চাষের জন্য ফয়সাল পঞ্চায়েতের কাছ থেকে ক্রয় করেছি। একর প্রতি ২৫ হাজার টাকা নিয়েছে ফয়সাল। ১৫ একরে তিন লাখ টাকা দিয়েছি। এখনও ৭৫ হাজার টাকা বাকি রয়েছে।’ চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. রাসেল বলেন, ‘ফয়সাল দুই একর জমি বাবদ আমার কাছ থেকে ৪৮ হাজার টাকা নিয়েছে। দেয়ালে আমার পিঠ ঠেকে গেছে বাধ্য হয়ে আমি ৪৮ হাজার টাকা দিয়া জমি কিনছি। ফয়সাল একজন দালাল ইউএনওওর।’ একই এলাকার হারুন মোল্লা বলেন, ‘আমার খতিয়ান খোলা জমি নিয়ে সরকারের সাথে মামলা চলছে। ওইজমির মধ্যে দুই একর জমি বাবদ ফয়সাল ৪৫ হাজার টাকা চায় আমার কাছে। দীর্ঘদিন আমি জমিটি ভোগদখল করে আসছি। আমি টাকা না দেয়ায় সে আমাকে মারধর করার হুমকি দিচ্ছে।’ ফয়সাল বাউফল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। চরাঞ্চলের শতশত একর জমি তার মাধ্যমে চাষের অনুমতিপত্র দিয়ে টাকা তুলেছেন ইউএনও। বিষয়টি নিয়ে মুঠো ফোনে ফয়সালের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু স্থানীয়রা জানান, ফয়সাল ডেবিল বলে অপরিচিত নম্বর তিনি ধরেন না। তাই একাধিকবার তাকে মুঠো ফোনে কল দেয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।
টিআর কাবিখা লুট:
টিআর, কাবিখা, কাবিটা প্রকল্পগুলো ইউএনও ইচ্ছামত প্রকল্প দিয়ে দু’হাত ভরে টাকা কামিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কাউকে পাত্তাই দিচ্ছেন না ইউএনও। সংশ্লিষ্টদের কোন মতামত না নিয়ে ওইসব প্রকল্প নিজেই তাঁর পছন্দের লোকজনের কাছ থেকে প্রকল্পের নাম নিয়ে লেনদেনের মাধ্যমে প্রকল্প বিলিয়েছেন। এ লেনদেনের বিনিময়ে মূল্য ছিল প্রতি প্রকল্প থেকে ২০ হাজার করে টাকা। অনুসন্ধানে জানাগেছে, ২০২৪/২০২৫ অর্থ বছরে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫৬টি কাবিখা/কাবিটা প্রকল্প গ্রহন করা হয়। এছাড়াও একই অর্থ বছরে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ৬৮টি কাবিটা প্রকল্প গ্রহন করা হয়। প্রতিটি প্রকল্প থেকে ২০ হাজার করে ঘুষ গ্রহন করেছেন ইউএনও নিজে। ফলে ওই দুই পর্যায়ের ১২১ প্রকল্প থেকে ২৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন ইউএনও আমিনুল। এ কারণে অধিকাংশ প্রকল্প বাস্তবায়ন হয় নি। আবার কিছু প্রকল্পে সামান্য কাজ হলেও তা দেখা গেছে নাম মাত্র। অথচ নিয়ম অনুযায়ী এসব প্রকল্পের দুর্নীতি এড়াতে প্রতিটি প্রকল্পে কাজের পরিমান/পরিধি, বরাদ্ধের পরিমান, কাজ শুরু এবং শেষ এর সময়, অর্থ বছর, সিপিসির নাম এসব লিখে একটি সাইবোর্ড সার্টানোর নিয়ম থাকলেও ইউএনও ঘুষ নেয়ায় প্রকল্পের সিপিসিরা থোরাই কেয়ার করেনি ওই নিয়মের। ফলে অধিকাংশ প্রকল্পে কাজ না করে প্রকল্পের টাকা বা বরাদ্ধকৃত চাল উঠিয়ে কেবল লুটপাট করা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, নাজিরপুর-তাঁতেরকাঠি ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের মজু হাওলাদার বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হইতে পশ্চিম দিকে খাল পর্যন্ত খাল মাটির রাস্তা দীর্ঘদিন বছর বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। হয়নি নূন্যতম সংস্কার কাজ। ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের নথি বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা-কাবিখা) প্রকল্পের অধীনে জুন মাসে মাটির রাস্তাটি মাটি দ্বারা পুন:নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কাজের অনুকূলে বরাদ্দের ২ লাখ ২৭ হাজার টাকাও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি উঠিয়ে নিয়েছে।
একই অর্থ বছরের ধূলিয়া ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ড নিজাম চেয়ারম্যানের বাড়ি হইতে ভ্যারনতলা পাকা সড়ক পর্যন্ত মাটির সড়ক নির্মাণ বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ থাকলেও সরেজমিনে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। সেখানে পূর্বেই ছিল মাটির একটি রাস্তা। যা বেহাল অবস্থায় পরে আছে কয়েকবছর। চলাচলে স্থানীয়দের ভোগান্তি পোহাতে হয় প্রতিদিন। নির্নাণ কাজ না হলেও নিজাম চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে খান বাড়ির পূর্ব পাশে পর্যন্ত (সড়কের ৩০ভাগ) অংশে শ্রমিকের পরির্বতে ভেকু দিয়ে মাটি ফেলা হয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও জুনেই নির্মাণ কাজের জন্য বরাদ্ধকৃত ১০ মেট্রিকটন খাদ্যশস্য (গম) সমপরিমাণ টাকা তুলে ফেলেছে বাস্তবায়ন কমিটি।
অন্যদিকে, কাছিপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড শাহজাহা দারোগার বাড়ির থেকে ব্র্রীজ পর্যন্ত সড়কের কোন উন্নয়ন হয়নি। বর্তমানে সড়কে চলাচলের অনুগযোগী প্রায়। অথচ নথি বলছে, এই অর্থ বছরের কাবিটা কর্মসূচির আওতায় শাহজাহান দারোগা বাড়ি থেকে ব্রীজ পর্যন্ত মাটির রাস্তাটি মাটি দ্বারা মেরামতের কাজ বাস্তবায়ন হয়ে গেছে। প্রকল্পের বরাদ্ধ ২ লাখ ১০ হাজার টাকা উত্তোলন করে নিয়েছে বাস্তবায়ন কমিটি। এছাড়াও একই অর্থ বছরে কাছিপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বরও ওয়ার্ডের পাকডাল ব্রীজ হতে আনিচ হাওলাদারের বাড়ির পশ্চিম পার্শ্বেও কার্লভাট পর্যন্ত মাটি দ্বারা ভরাট এর কাজটি আদৌ না করে প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দের এক লাখ ১৫ হাজার টাকা তুলে নেয়া হয়েছে।
এছাড়াও ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের কাবিখা কর্মসূচির আওতায় কালাইয়া ইউনিয়নের কর্পূরকাঠি গ্রামে দুইটি সড়ক মাটি দ্বারা পুন:নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সড়কের সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে ১০ হাজার করে টাকা। কাবিটা কাবিখা কর্মসূচির আওয়ায় মাটির কাজ প্রকল্পের কাজ স্থানীয় দিনমজুর লোক দ্বারা মাটি কেটে নির্মাণ ও সংস্কার কাজ করাতে হবে বিধান থাকলেও কাজ করা হয়েছে ভেকু মেশিন দিয়ে। ফলে গরিব দুস্থ এবং দিনমজুর লোজকন অধিকার ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
তবে ওই অর্থ বছরের তৃতীয় প্রকল্পের তালিকা অনুসন্ধান করেও পাওয়া যায়নি। ফলে তৃতীয় পর্যায়ের ওই প্রকল্পের তালিকা হাতে না পাওয়ায় এর অনিয়ম দুর্নীতি সম্পর্কে খোঁজ নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন তৃতীয় পর্যায়ের প্রকল্পে এর চেয়ে বেশী দুর্নীতি করা হয়েছে।
বিকল নৌযানের লাখ টাকার তেল চুরি:
ডাবল ইঞ্জিল চালিত একটি স্পীড বোট রয়েছে ইউএনওর তত্ত্বাবধানে। এক বছরের অধিক সময় ধরে ওই স্পীড বোটটি অচল অবস্থায় পরে আছে। ওই উপজেলার মৎস্য, এলজিইডি, কৃষি, খাদ্যসহ সব দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানাগেছে ওই স্পীড বোট ব্যবহার করে নৌপথে কোথাও যাওয়া হয়নি। আর যাওয়ারও সুযোগ নাই কারণ ওই নৌযানটি দীর্ঘ সময় ধরে বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। সেই বিকল স্প্রীড বোটের অনুকুলে জ্বালানী খরচ দেখিয়ে রাষ্ট্রিয় কোষাঘার থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা আতœসাৎ করেছে ইউএনও আমিনুল। স্পীড বোটের জ্বালানী খরচ দেখিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে ৪৮ হাজার, ফেব্রুয়ারী মাসে ৪১ হাজার ৭০০, মার্চে ২০ হাজার ৮৫০, এপ্রিল মাসে ২০ হাজার ৮৫০ এবং মে মাসের তুলে নেয়া হয় ৮৯ হাজার ১৭৭ টাকা। মোট দুই লাখ ২০হাজার ৫৭৭ টাকা আত্মসাৎ করেছেন আমিনুল।
ইউএনও এবং কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: ইউএনও আমিনুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি এ প্রতিবেদকের কাছে সাক্ষাৎ দেন নি। পরে বহুবার তাকে ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। তবে তার এসব অনিয়ম দূর্নীতি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বিক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘ইউএনওর কর্মকান্ড নিয়ে আপনাদের এত চুলকায় ক্যা? হাজার হাজার কাজ। ইউএনওর ফোন ধরার সময় আছে?’ পরে তার এই অনিয়ম নিয়ে তিনি এক বাক্যে বলেন, ‘সব মিথ্যা ভিত্তিহীন, গুজব, অপপ্রচার। কোন অনিয়ম দূর্নীতি হয়নি।’
সদ্য বিদায়ী বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার রায়হান কাওসার বলেন, ‘ইউএনও আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে আমার দপ্তরে অনেক অভিযোগ আসছে। তাকে সতর্ক করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে এমনিতেই নিয়মিত বদলি করা হবে। সে পর্যবেক্ষনে রয়েছে।’

