
গভীর শ্রদ্ধা, নীরবতা ও অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং মাতৃভাষার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে ডিন কাউন্সিল, প্রভোস্ট কাউন্সিল, ইউট্যাব, জিয়া পরিষদ (পবিপ্রবি ইউনিট), জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কর্মচারী পরিষদ, রক্তদাতা সংগঠন বাঁধন, ঘাসফুল বিদ্যালয়, পবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি, ইয়াস বাংলাদেশ, এগ্রিকালচার ক্লাব, আলোরতরী, সনাতন সংঘসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নেমে আসে গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশ।
সকাল ৮টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান এবং কালো পতাকা উত্তোলন করেন প্রফেসর ড. মোঃ মামুন-অর-রশিদ। পরে প্রভাতফেরি বের হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একাডেমিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে প্রভাতফেরি একুশের চেতনায় মুখর হয়ে ওঠে।
সকাল সাড়ে ৮টায় কৃষি অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মোঃ মামুন-অর-রশিদের সভাপতিত্বে এবং ড. এ বি এম সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মোঃ হাবিবুর রহমান। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির আত্মমর্যাদা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার ভিত্তি স্থাপন করেছে। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যা বাঙালির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মাতৃভাষার চর্চা, গবেষণা ও সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভা শেষে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী আয়োজনে একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।


