
পটুয়াখালী জেলার ইউনিয়ন পরিষদগুলোর হিসাব ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল সেবার মানে এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও প্রতিযোগিতামূলক, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৭৪ জন হিসাব সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের কর্মস্থল লটারির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও আস্থার একটি নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জুয়েল রানার সভাপতিত্বে ৭৪ জন হিসাব সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর ওরিয়েন্টেশন সেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। এসময় জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিকভাবে পরিচালিত হয়েছে। লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করা হয় এবং কোনো প্রভাব বা পক্ষপাতের সুযোগ না দিয়ে লটারির মাধ্যমে কর্মস্থল নির্ধারণ করা হয়।
নিয়োগ কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, “স্বচ্ছতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে এই কর্মকর্তারা নির্বাচিত হয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক ও ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য তাদের সততা, দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য।”
নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব জুয়েল রানা বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদ হলো জনগণের সবচেয়ে কাছের প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান। নতুন কর্মকর্তারা সরকারি বিধি-বিধান মেনে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে নাগরিক সেবা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
দায়িত্ব, প্রশিক্ষণ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ওরিয়েন্টেশন সেশনে নবনিযুক্ত কর্মকর্তাদের সরকারি আচরণবিধি, হিসাব সংরক্ষণ ও নিরীক্ষা পদ্ধতি, ই-ফাইলিং, ডিজিটাল সেবা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জনবান্ধব প্রশাসন পরিচালনার বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। লটারির মাধ্যমে পোস্টিং সম্পন্ন হওয়ায় ইউনিয়নগুলোতে সমানভাবে জনবল বিতরণ নিশ্চিত হয়েছে। এতে গ্রামীণ পর্যায়ের নাগরিক সেবা গ্রহণের মানোন্নয়ন ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, নতুন এই জনবল যোগদানের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর হিসাব ব্যবস্থাপনা আরও নিয়ন্ত্রিত হবে, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারিত হবে এবং সাধারণ জনগণ দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য সেবা পাবে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।


