
অমিতাব দাস অপু, মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ৪নং দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের হাজিখালী খালের বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে নয়টি গ্রামের প্রায় পাঁচশত একর আমন ক্ষেত। পানির নিচে ডুবে থাকা এসব ধানক্ষেত নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে দ্রুত বাঁধ নির্মাণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত আবেদন জমা দেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সচেতন মহল। আবেদনে মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আইউব খান, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মল্লিক মাকসুদ আহমেদ বায়েজীদ, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি খন্দকার আতাহার উদ্দিন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ফারুক খান, সাধারণ সম্পাদক মো. আওলাদ হোসেনসহ অনেকে স্বাক্ষর করেন।
সরেজমিন দেখা যায়, পায়রা নদীর শাখা থেকে উৎপত্তি হওয়া হাজিখালী খাল দেউলীর বেবেরদোন নদীতে গিয়ে মিলেছে। এর শাখা হিসেবে রয়েছে রানীপুর, বোয়ালিয়া, মুসুদা, সাতবাড়িয়া, লেমুয়া, চরখালীসহ বহু গ্রাম। খালের দুই প্রান্তে বাঁধ ও সুয়েজ গেটের মাধ্যমে পানি নিয়ন্ত্রণ করে এসব গ্রামের কৃষিজমিতে সেচ দেওয়া হয়। কিন্তু গত মাসে পায়রা নদীসংলগ্ন অংশে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন জোয়ারের পানি ঢুকে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানান, আমন ধান পুরোপুরি শুকনো মৌসুমের উপর নির্ভরশীল। টানা পানি জমে থাকায় একটি ধানও ঘরে তুলতে পারবেন না বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় কৃষক মাহাবুব বলেন, “আমাদের জীবিকা পুরোপুরি এই আমন ধানের ওপর নির্ভরশীল। তার ওপর অনেকেই ঋণের বোঝা নিয়ে আছি। বাঁধ দ্রুত না দিলে সব ধান নষ্ট হয়ে যাবে।”
উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি খন্দকার আতাহার উদ্দিন বলেন, “উপকূলীয় অঞ্চলে একমাত্র আমন মৌসুমই কৃষকের ভরসা। প্রায় পাঁচশত একর জমির ধান ডুবে গেলে কৃষকেরা পথে বসবে। পানি না শুকালে রবি মৌসুমে কোনো ফসলই আবাদ সম্ভব নয়।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাম্মৎ মলিহা খানম বলেন, বাঁধ মেরামতের আবেদন পাওয়া গেছে। স্থানটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


