
কুয়াকাটা প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিককে হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. বাচ্চু খলিফা মহিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
জিডি সূত্রে জানা যায়, বাচ্চু খলিফা স্থানীয়ভাবে দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার কুয়াকাটা প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে থাকেন।
এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি কুয়াকাটা পৌর শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি জসিম মৃধা, পৌর মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক মো. আবুসালে ফরাজী ও পৌর কৃষক দল নেতা আলমাসসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে একাধিক সংবাদ প্রকাশ করলে অভিযুক্ত পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, এরপর থেকে একটি চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে অপপ্রচার চালাতে থাকে এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়। এমনকি তার ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও জিডিতে উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কুয়াকাটার একটি আবাসিক হোটেলের সামনে অভিযুক্তরা তাকে খুঁজে পেলে হাত-পা কেটে ফেলা ও হত্যার হুমকি দেয় এমন তথ্য তিনি সাক্ষীদের মাধ্যমে জানতে পারেন। এতে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে তিনি থানায় জিডি দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক বাচ্চু খলিফা বলেন, “সত্য সংবাদ প্রকাশের কারণে অভিযুক্তরা আমার ওপর ক্ষুব্ধ। তারা আমাকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। আমি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত আলমাস বলেন, “সাংবাদিক বাচ্চু আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছেন। আমি কিছু কথা বলেছি ঠিক, তবে হত্যা বা গুরুতর কোনো হুমকি দেইনি।”
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রবীণ সাংবাদিক মো. মেজবাহ উদ্দিন মান্নু বলেন, সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া উদ্বেগজনক। মতভিন্নতা থাকলে আইনি বা নীতিগতভাবে প্রতিবাদের সুযোগ রয়েছে, কিন্তু হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মোঃ মহব্বত খান, অফিসার ইনচার্জ, মহিপুর থানা বলেন, ঘটনার বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
