
পটুয়াখালীর গলাচিপার গছানী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত পথসভায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, “হুমকি-ধমকি দিয়ে আর কেউ জনপ্রতিনিধি হতে পারবে না। জনগণের ভোট ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ কিংবা জাতীয় সংসদের কোনো পদে কেউ আর আসতে পারবে না।”
তিনি বলেন, সামনের জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে—আগামী বাংলাদেশ কোন পথে অগ্রসর হবে। বিগত ৫০ বছরের রাজনীতিকে ‘ধর, মার, খাও ও লুটপাটের রাজনীতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে নুর বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে এমপি পর্যন্ত অনেক জনপ্রতিনিধি উন্নয়নের নামে জনগণের সম্পদ লুটপাট করেছেন।
নুরুল হক নুর অভিযোগ করে বলেন, “একটি মসজিদের জন্য তিন লাখ টাকা বরাদ্দ হলে দেড় লাখ টাকার কাজ হয়। দুই কোটি টাকার রাস্তার কাজ হয় এক কোটি টাকারও কম। ফলে বছরের ভেতরেই রাস্তায় গর্ত, মানুষের দুর্ভোগ। অটো উল্টে মানুষ মারা যাচ্ছে—এসবের কারণ কাজের অর্ধেকও বাস্তবায়ন না হওয়া।”
তিনি আরও বলেন, এসব অনিয়মের সঙ্গে অনেক জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিরা কমিশন নেন। তবে তার দলের কর্মীদের ‘মানুষের জন্য জীবন উৎসর্গ করা সংগ্রামী মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
চর দখল, হয়রানি ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ‘ফ্যাসিস্ট দোসর’ বা ‘আওয়ামী লীগ’ ট্যাগ দিয়ে অপবাদ দেওয়ার প্রবণতা বেড়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন নুর। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি এক থানার ওসিকে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন—“রাজনৈতিক নির্দেশে নিরীহ মানুষকে গ্রেফতার করা বা হয়রানি করা যাবে না। প্রশাসনকে জনগণের স্বার্থে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরো বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে কৃষক–শ্রমিক–সাধারণ মানুষের আন্দোলনের ফলেই বিগত সরকারের পতন হয়েছে। এখন প্রয়োজন এমন একটি বাংলাদেশ গড়া—যেখানে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার আইনি অধিকার, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সমান সুযোগ থাকবে এবং কাউকে অন্যায়ভাবে হয়রানি সহ্য করতে হবে না।
সভায় সভাপতিত্ব করেন গণঅধিকার পরিষদ বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন আহ্বায়ক মফিজুর রহমান মাহফুজ। সঞ্চালনায় ছিলেন ইউনিয়ন শাখার সদস্য সচিব ইমরান হাওলাদার। অনুষ্ঠানে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ভিপি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। এ আসনে বিএনপি প্রার্থী ঘোষণার সিদ্ধান্ত এখনো স্থগিত রয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিতে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান মামুনকে।
