
ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী রেজাউল করিম বলেছেন, ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে যেখানে মানুষের ও দেশের কল্যাণ নেই, সেখানে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ কখনো অবস্থান নেয়নি। চাইলে পারিবারিক ও রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে সহজেই এমপি-মন্ত্রী হওয়া কিংবা বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া ছিলে ওয়ান টুর ব্যাপার, কিন্তু আমরা সেই পথে হাঁটেনি।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পটুয়াখালী শহীদ আলাউদ্দিন শিশু পার্কে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমীর মুফতী রেজাউল করিম আরও বলেন, ক্ষমতা কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়—দেশ, মানুষ ও ইসলামের কল্যাণই ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতির মূল দর্শন। ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন এবং মানবকল্যাণের লক্ষ্যেই সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে আসছে।
জোট ভাঙন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জোট রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে মাঠে নামার সময় অনেকেই বিদ্রুপ করেছে এবং তাদের একা হয়ে যাওয়ার কথা বলেছে। তবে বাস্তবে তারা একা নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আল্লাহর সাহায্য এবং ইসলামপ্রিয় ও দেশপ্রেমিক মানুষের সমর্থন তাদের সঙ্গে রয়েছে। সারাদেশ সফরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে এবং ইসলামি আন্দোলনের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ প্রকাশ করছে।
জনসভায় তিনি একটি সোনার বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানুষকে জুলুম, চাঁদাবাজি, নির্যাতন ও মানবপাচার থেকে মুক্ত করতে হবে। এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা জরুরি যেখানে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, শিশু মায়ের কোলে ফিরে পাবে এবং আযানের ধ্বনিতে দিনের সূচনা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, একসময় এমন একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, কিন্তু তা যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায়নি।
তিনি জানান, ইসলামের একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে কওমি ঘরানার পাঁচটি দল একত্রিত হয়েছিল। পরে সেখানে আরও কয়েকটি দল যুক্ত হয়। সেই উদ্যোগের মূলনীতি ছিল জোট নয়, সমঝোতা এবং কোনো একক নেতৃত্ব নয় বরং সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। তবে জনগণের ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার পর একটি ক্ষমতালোভী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে সেই উদ্যোগকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করে, যার ফলে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়নি।
রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়ে রেজাউল করিম বলেন, ইসলামের বিধান অনুসরণ না করে প্রচলিত ব্যবস্থায় দেশ পরিচালনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু গত ৫৪ বছরে এই ব্যবস্থায় জাতি নতুন কোনো দিকনির্দেশনা পায়নি। তাই বিকল্প ও কল্যাণভিত্তিক রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা এখন আরও স্পষ্ট।
এসময় তিনি পটুয়াখালী-১ আসনে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের দলীয় প্রার্থী আবুল হাসান বোখারীকে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।