
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সদ্য বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘সবকিছু বুঝলাম তাই বলে মজলুম নেত্রীর ইন্তেকালের দিনে দলের ও রাজপথের মজলুম নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা? ক্ষমতার মোহে আল্লাহর আরশ কাঁপানোর মতো বেপরোয়া হলেন?’
মঙ্গলবার রাত ৮টা ৩৪ মিনিটে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন হাসান মামুন। এর আগে সন্ধ্যা ৭টা ১৪ মিনিটে আরেক পোস্টে তিনি জানান, বিএনপি থেকে বহিষ্কারের আগেই তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। এ সংক্রান্ত দুটি ছবি তিনি পোস্ট করেন, যেখানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট সংযুক্ত ছিল।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ২৮ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। পরে সন্ধ্যা ৭টা ২৬ মিনিটে দেওয়া আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বিএনপির সিদ্ধান্ত পূর্বনির্ধারিত। আমি আগেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।’ রাত ৮টা ৩৮ মিনিটে দেওয়া পৃথক এক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘ময়মনসিংহের ফখরুদ্দিন বাচ্চুকে বহিষ্কার—তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে মামলা করার কতদিন পরে ডেকে এনে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ও সঙ্গে মনোনয়ন দেওয়া হলো?’ এরপর রাত ৮টা ৪০ মিনিটে আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বিএনপির সকল সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন হাসান মামুন। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসনটি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। এরপরও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন এবং সোমবার মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। একই সঙ্গে তিনি নিজ উদ্যোগে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব কর্মকাণ্ড বিএনপির গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী হওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে হাসান মামুনকে দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নুরুল হক নূর বলেন,‘মামুন ভাই দীর্ঘদিন বিএনপির সাথে যুক্ত থেকেছেন, নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হয়ে তিনি কার্যত দলকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই বিএনপির মতো বৃহৎ দল দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেবেন।আশা করবো মামুন ভাই দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে আমার সাথে কাজ করবেন। এলাকায় উন্নয়নের বৃহত্তর স্বার্থে আমি সকলকে সাথে নিয়েই কাজ করবো।’


