
পটুয়াখালীতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক পুলিশ সদস্যের বসতঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার (১২ জানুয়ারি) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের ধনখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে বসতঘরের আসবাবপত্রসহ প্রায় তিন লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্যের নাম মো. ফিরোজ আলম। তিনি ভোলা থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত রয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে মো. ফয়েজ আলম বাদী হয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চাকরির সুবাদে মো. ফিরোজ আলম পরিবারসহ ভোলায় বসবাস করেন। গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এক আত্মীয়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে তাঁরা নিজ বাড়িতে আসেন। পরে ফয়েজ আলম তার খালার বাড়িতে অবস্থানকালে শনিবার (১১ জানুয়ারি) ভোররাতে ফোনের মাধ্যমে জানতে পারেন দুর্বৃত্তরা তাদের বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
খবর পেয়ে বাড়িতে এসে তারা দেখতে পান বসতঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এ সময় মো. আউয়াল সিকদার, ফরিদ সিকদার, মোসাঃ আমিরুন নেছা ও আরিফসহ কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ধাওয়া দেয় বলে অভিযোগ করা হয়। প্রাণভয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এর আগেও একাধিকবার মারধর ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ এই অগ্নিসংযোগে পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, ঘটনার পর পুলিশে খবর দিতে গেলে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে পুনরায় হামলা ও হত্যাচেষ্টার হুমকি দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি সদর থানাকে জানালে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
