স্টাফ রিপোর্টার: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংখ্যালঘু পরিবারের দুই নারীসহ তিনজনকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ গাবুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. মজিবর রহমানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
নির্যাতনের শিকার সবিতা রানী, তার স্বামী সমীর চন্দ্র হাওলাদার এবং কন্যা ঝিলিক রানী জানান, তাদের বসতঘরের সামনে একটি বিরোধপূর্ণ জমিতে মন্দির সংলগ্ন বনজ গাছের ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ সময় সমীর চন্দ্রের ভাই শংকর চন্দ্র গাছের মালিকানা দাবি করে বাধা দেন। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটির জেরে শংকর চন্দ্র স্থানীয় বিএনপি নেতা মজিবর রহমানকে ফোনে ডেকে আনেন।
অভিযোগ রয়েছে, মজিবর রহমান লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে শংকর চন্দ্রের পক্ষ নিয়ে সমীর চন্দ্রকে লাঠিপেটা শুরু করেন। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গেলে স্ত্রী সবিতা রানী ও মেয়ে ঝিলিক রানীকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পাশাপাশি তাদের বাড়ি ছাড়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
পরে আহত তিনজনকে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে তারা বর্তমানে বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, অতীতেও তাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করে একাধিকবার মারধর করা হয়েছে। বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা মো. মজিবর রহমান বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। একটি মহল আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে এ অভিযোগ করেছে। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেছি। আমি যাওয়ার আগেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।”
উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সাহাবুদ্দিন নান্নু বলেন, “হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিবারের ওপর এমন ঘটনা নিন্দনীয়। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। দলের কেউ জড়িত থাকলেও ছাড় দেওয়া হবে না।”
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস সালাম বলেন, “ভুক্তভোগীদের বক্তব্য শুনেছি। এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”