আবুল হোসেন রাজু, কুয়াকাটাঃ
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় রাতের আঁধারে বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ তুলে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় প্রেসক্লাবের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, কুয়াকাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কুয়াকাটা গেস্ট হাউস সংলগ্ন তার মালিকানাধীন জমিতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অনধিকার প্রবেশ করে বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে দখল নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তার অভিযোগ, এ ঘটনায় নেতৃত্ব দেন জামায়াতে ইসলামীর রোকন সদস্য ও পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সহকারী বাইতুল মাল সম্পাদক শাহাবুদ্দিন ফরাজী। এ সময় তার সঙ্গে ১৫–২০ জন ব্যক্তি ছিলেন।
তিনি জানান, কুয়াকাটা গেস্ট হাউস সংলগ্ন ১২৪/১২২৬ নম্বর খতিয়ানের জমিটি তার পিতার মালিকানাধীন ছিল। পিতার মৃত্যুর পর বৈধ বণ্টনের মাধ্যমে তিনি ওই জমির মালিকানা লাভ করেন। একই খতিয়ানের দক্ষিণ পাশের কিছু জমি অন্যদের কাছে বিক্রি হলেও তার অংশের জমি দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল দখলের চেষ্টা করে আসছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এম এ মোতালেব শরীফ আরও বলেন, আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা ২০২৪ সালের বিভিন্ন সময়ে জাল দলিল ও প্রভাব খাটিয়ে তার জমি দখলের চেষ্টা চালায়। সর্বশেষ গত ৩ জানুয়ারি তারিখে তার গেস্ট হাউজের পেছনের অংশে ঘর নির্মাণের হুমকি দেওয়া হলে তিনি মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
তিনি দাবি করেন, অভিযোগ দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাতুড়ি ও বাঁশ দিয়ে বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে টিনের বেড়া ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শাহাবুদ্দিন ফরাজীর নেতৃত্বে কয়েকজন তার জমিতে ঢুকে ঘর নির্মাণের চেষ্টা চালায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং গেস্ট হাউজে অবস্থানরত পর্যটকরাও ভীত হয়ে পড়েন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে মহিপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে।
এম এ মোতালেব শরীফ আরও অভিযোগ করেন, অতীতে তার বোনদের অংশের কিছু জমি তিনি কিনে নিলেও এখনো বৈধ দলিল বুঝে পাননি। বর্তমানে কোনো ধরনের আইনগত কাগজপত্র ছাড়াই তার জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চলছে বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নিজের জমির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত নেতা শাহাবুদ্দিন ফরাজী বলেন, “আমি কোনো জমি দখল করতে যাইনি। এখানে আমার মা ও খালাদের ন্যায্য অংশ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা আমাদের জমি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছি। নিজেদের জায়গা বুঝে নেওয়ার জন্যই সেখানে গিয়েছি। এখানে কোনো অন্যায় করা হয়নি।”
এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খান বলেন, “জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি জমিসংক্রান্ত বিরোধ। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”