পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সেবা গ্রহীতাদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন—উচ্চমান সহকারী জয়দেব গোয়ালী ও কর আদায়কারী নাজমুল ইসলাম। জন্ম নিবন্ধন করতে আসা এক সেবা গ্রহীতার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হুমকি দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) কুয়াকাটা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আল-আমিন হাওলাদার তার সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করতে পৌরসভায় যান। এসময় কর আদায়কারী নাজমুল ইসলাম তাকে জানান, আগে বকেয়া ট্যাক্স পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু আল-আমিন দাবি করেন, তিনি এরই মধ্যে ট্যাক্স পরিশোধ করেছেন। তখন তাকে রশিদ আনতে বলা হয়।
রশিদ নিয়ে পৌরসভায় ফিরে এলে দেখা যায়, তার জমাকৃত টাকার হিসাব পৌরসভার খাতায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই কর্মচারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এসময় জয়দেব গোয়ালী ও নাজমুল ইসলাম তাকে অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। শুধু তাই নয়, অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, তারা ভুক্তভোগীকে ‘তুইতো’ করে সম্বোধন করেন, গালাগাল করেন এবং মারধরের হুমকি দেন। এমনকি সেবা না দেওয়ার কথাও জানিয়ে দেন।
ভুক্তভোগী আল-আমিন হাওলাদার বলেন, “আমি যথাযথভাবে ট্যাক্স পরিশোধ করেছি। কিন্তু পৌরসভার খাতায় টাকা জমা না হওয়ায় জানতে চাই। অথচ তারা উল্টো আমাকে অপমান করেছে, গালাগাল করেছে এবং অফিস থেকে বের করে দিয়েছে। একজন সেবা গ্রহীতা হিসেবে এটি আমার জন্য চরম অপমানজনক।”*
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জয়দেব গোয়ালী বলেন, “আল-আমিন এসে আমাদের চাল চোর বলে অপবাদ দেন। তিনি খারাপ ব্যবহার করায় আমরা তাকে অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলি। তবে কোনো খারাপ আচরণ করা হয়নি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, জয়দেব গোয়ালী দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। পূর্ববর্তী সময়েও পৌরসভার মালামাল বণ্টনে অনিয়ম করেছেন বলে তারা দাবি করেন। এসব কারণে সাধারণ মানুষ পৌরসভার কাজে যেতে ভীতি বোধ করেন এবং নানা হয়রানির শিকার হন।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সচেতন মহলের মতে, সেবা দেওয়ার কথা যাদের, তাদের কাছেই যদি সাধারণ মানুষ হয়রানি ও হুমকির শিকার হন তবে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসিন সাদেককে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাধারণ সেবা গ্রহীতারা দ্রুত তদন্ত করে পৌরসভায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।