প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ৫:৩৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
কিস্তি দিতে না পারায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ এনজিও কোডেক কর্মীদের বিরুদ্ধে

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া থেকে: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কোডেকের ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে চুল ধরে মারধরসহ শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এনজিও কোডেক কর্মীদের বিরুদ্ধে।
শনিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ধানখালী ইউপি গণ্ডামারী গ্রামে ওই গৃহবধূর নিজ বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রবাসীর ওই গৃহবধূকে চুল ধরে কিল-ঘুষি ও তলপেটে লাথি মারলে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ওই গৃহবধূ হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে চিকিৎসাধীন।
হাসপাতালের শয্যায় আহত গৃহবধূ মোসা. খায়রুন বেগম বলেন, গত বছর ডিসেম্বরে কোডেক থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে কুয়েতে পাড়ি জমান তার স্বামী নজির মোল্লা। আর অভাবের সংসারে রেখে যান তিন সন্তান ও অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ খায়রুন বেগমকে। তবে বিদেশ গিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এখনও টাকা পাঠাতে পারেননি প্রবাসী নজির মোল্লা। ফলে দুই ছেলে, এক মেয়ে ও পেটের অনাগত সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন এই গৃহবধূ। এরই মাঝে কিস্তি পরিশোধে প্রতি সপ্তাহে বাড়িতে গিয়ে হানা দিচ্ছিলেন কোডেক কর্মীরা। ফলে অভাবের মধ্যেও দুইটা কিস্তি পরিশোধ করেছেন তিনি।
শনিবার দুপুরে ফের গণ্ডামারী গ্রামে ওই গৃহবধূর বাড়িতে কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য প্রবেশ করেন ধানখালী শাখার ম্যানেজার মনিরসহ আরও তিনজন। এ সময় গৃহবধূকে বকেয়া কিস্তি পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন ওই এনজিওর দুই নারী কর্মী। কিন্তু ঘরে অর্থ না থাকায় প্রবাস থেকে টাকা পাঠালেই দেওয়ার কথা বলেন খায়রুন বেগম। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অফিসে নিয়ে গিয়ে বেঁধে রেখে আদায়ের কথা বলেন ম্যানেজার মনির হোসেন।
খায়রুনের অভিযোগ, এ সময় তিনি অসুস্থতার কথা জানালে তাকে নারী কর্মীরা বাজে ভাষায় গালমন্দ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি এনজিও কর্মীদের বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বললে ম্যানেজার মনির তার চুলের মুঠি ধরে তাকে ঘরের বাইরে টেনে হিঁচড়ে বের করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি শক্ত করে দরজা ধরে থাকলে সজোরে লাথি দিলে তিনি ছিটকে পড়ে যান। এরপরে নারীকর্মীরা তাকে এলোপাতারি চড়-থাপ্পড় মারেন। পরে তিনি বমি শুরু করলে এনজিও কর্মীরা বাড়ি ত্যাগ করেন।
স্থানীয় সংরক্ষিত আসনের নারী ইউপি সদস্য মালা বেগম জানান, আমি সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একটি সালিশ বৈঠকে ছিলাম। এ সময় খবর পাই এনজিও কর্মীরা অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধর করেছে এবং তিনি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে এনে ভর্তি করি। তবে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধরের বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এ ঘটনায় খায়রুনের ভাসুর রফিক মোল্লা ক্ষুব্ধ হয়ে জানান, আমার ভাই প্রবাসে গিয়ে এক টাকাও পাঠাতে পারেনি। কিস্তি দিতে না পারায় তার ভাইয়ের বউয়ের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে এনজিও কর্মীরা। তাই প্রশাসনের কাছে হামলাকারীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
কলাপাড়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ববি মালাকার বলেন, ওই গৃহবধূকে পেটে আঘাত করা হয়েছে। তার আলট্রাসনোগ্রাম হয়েছে। পেটে চার মাসের সন্তান ভালো আছে। তবুও তলপেটে আঘাতজনিত কারণে তাকে ২৪ ঘণ্টা হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
কোডেক এনজিও ধানখালী শাখার ম্যানেজার মনির হোসেন হামলার ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, আমরা তাকে অফিসে আসতে বলেছি। তাকে কোনো মারধর করা হয়নি। বহুদিন ধরে তিনি কিস্তি বকেয়া রেখেছেন।
কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়টি আমাদের কেউ অবহিত করেনি। তবে এটি ঘটে থাকলে সেটি দুঃখজনক। আমাদের কাছে আসলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সর্বসত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ | খবর পটুয়াখালী - Design & Developed by SoftX IT Ltd.