কে এম বাচ্চু,কুয়াকাটা থেকেঃ
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামে মাছের ঘের সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে কৃষক পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে স্থানীয় শ্রমিকদল নেতা ফরিদ চৌকিদারের নেতৃত্বাধীন একদল যুবক। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এ হামলায় একই পরিবারের ছয়জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেড়িবাঁধের বাইরে অবস্থিত একটি মাছের ছোট ঘের দীর্ঘদিন ধরে ভোগ করে আসছিলেন আলমগীর মুসুল্লি। দু’দিন আগে ঘেরের মাছ নিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে আলমগীরের সঙ্গে স্থানীয় নূরজামাল হাওলাদারের বাকবিতণ্ডা হয়। এরই জেরে বুধবার সন্ধ্যায় শ্রমিকদল নেতা ফরিদ চৌকিদার, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা রাজিব, যুবদল নেতা নাজমুলসহ ১৫–২০ জনের একটি দল আলমগীরের পরিবারের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘরের বিদ্যুতের মিটার ভাঙচুর এবং ঘরে লুটপাটও চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী আলমগীর মুসুল্লি বলেন, “আমাদের কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। নূরজামাল টাকা দিয়ে ওদের ভাড়া করে আমাদের ওপর হামলা করিয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
হামলায় আলমগীর মুসুল্লি, তার স্ত্রী ময়না বেগম, দুই ছেলে হাসান ও হাবিব এবং ভাই আল–আমিন আহত হন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হাসান, হাবিব ও ময়না বেগমের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে।
আহত হাসান বলেন, “আমরা শুধু ঘের থেকে মাছ নিয়ে যাওয়ার বিষয়টা জানতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা পরিকল্পিতভাবে দল বেঁধে এসে আমাদের মারধর করেছে, ঘরও ভেঙেছে।”
হাবিব জানান, “বিকেল থেকেই আমাদের হুমকি দিচ্ছিল। পরে সন্ধ্যায় এসে হামলা চালায়। এখন আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শ্রমিকদল নেতা ফরিদ চৌকিদারের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তারা দাবি করেন, ফরিদ টাকার বিনিময়ে ‘বটবাহিনী’ নিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে থাকে।
অভিযোগ অস্বীকার করে নূরজামাল হাওলাদার বলেন, “এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”
অভিযুক্ত ফরিদ চৌকিদার বলেন, “আমি মারধর করিনি। বরং মারামারি ছাড়াতে গিয়ে আমিই মারধরের শিকার হয়েছি।” টাকা লেনদেনের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল ইসলাম বলেন, “৯৯৯–এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় মামলা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।