
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও সরকারি সেবা সুবিধা প্রদানের নামে জনগণের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানখালী ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া গ্রামের আনন্দবাজার সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সরকারি ঘর, টয়লেট, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, জন্মনিবন্ধন, ভিজিডি, ভিজিএফ ও ১৫ টাকা দরের চালের কার্ডে নাম দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেন ৪নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে।
আক্কাস গাজী নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, ৩০ কেজি দরের চাল দেওয়ার নামে আমার কাছ থেকে চার হাজার টাকা নিয়েছে ইউপি সদস্য আবুল হোসেন। চালের তালিকায় আমার নাম পাইনি, আর টাকাও ফেরত পাইনি। আবুল মেম্বারের কাছে টাকা চাইতে গেলে “দেই, দিচ্ছি” বলে ঘুরাচ্ছে।
ভুক্তভোগী শাহিন বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের অধীনে টয়লেট দেওয়ার নামে দুই হাজার টাকা মেম্বার আবুল হোসেন আমার কাছ থেকে নেয়। টাকা চাইতে গেলে আমাকে বাড়ি থেকে ধাক্কা মেরে তাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলে না।
রোজিনা বেগম জানান, আমার কাছ থেকে সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে দুই হাজার টাকা নেয়। ঘর পাইনি, টাকা চাইতে গেলে মেম্বার আমার টাকা ফেরত দেয় না।
ভুক্তভোগী স্বর্ণা বলেন, এই মেম্বারের কাছে সরকারি সহায়তার তালিকায় নাম তুলতে হলে ইজ্জত দিতে হয়, নইলে নাম ওঠে না। আমার স্বামীর কাছ থেকেও দুই হাজার টাকা নিয়েছে। টাকা চাইতে গেলে আমার সামনে আমার স্বামীকে মারধর করেছে।
সোহরাব মাতুব্বর বলেন, এই গ্রামের কোনো লোক তার নির্যাতন থেকে বাদ যায়নি। বিভিন্ন প্রকার মামলা ও হামলা দিয়ে হয়রানি করে।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য আবুল হাওলাদার বলেন, শাহিনের কাছ থেকে অফিস খরচের জন্য টয়লেট পাইয়ে দেওয়ার বাবদ ৫০০ টাকা নিয়েছি। বাকি ১ হাজার ৫০০ টাকা আমার গৃহিণীর কাছে দিয়েছে। শাহিনকে মারধর করিনি। এ ছাড়া গ্রামবাসী আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।


