পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চরবাংলায় সরকার থেকে ইজারা পাওয়া খাস জমিতে তরমুজ চাষ করতে গিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২৫ জনকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা আনোয়ার হাওলাদার ও তাঁর সহযোগীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান জানান, খাস জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে আদালতে মামলা ও প্রশাসনিক মীমাংসার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার পুনরায় চাষ দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন— নিজাম গাজী (৬২), নূর মোহাম্মদ সিকদার (৭০), আলম হাওলাদার (৪৭), কবির মেলকার (৫৫), মুসা খান (২৩), রিয়াজ মুসুল্লি (৩৮), হাসান সিকদার, আনোয়ার ফকির (৪৭), সিরাজ খা (৬০), শফিক হাওলাদার (৪০), বাবুল তালুকদার (৪৮), বারেক ফকির (৬০), শাহাবুদ্দিন (৪৯), বেল্লাল ঢালী (৬০), সোহেল তালুকদার (৪২), জামাল তালুকদার (৫৪), রেখা বেগম (৩৮), আকলিমা বেগম (৩০), নিলুফা বেগম (৪০), ফারুল মীর (৫৫), শাহীন মীর (৩০), আনোয়ার হোসেন ফকির (৪৮), তৈয়ব মোল্লা (৪২) ও ফরহাদ তালুকদার (২৭)।
আহত কৃষক জালাল তালুকদার বলেন, “ভূমি অফিস থেকে ইজারা পাওয়া জমিতে চাষ দিতে গেলে চরবিশ্বাস ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাকের বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান এবং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হাওলাদার বাধা দেন। ইউএনও ও ওসি সাহেব উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে বিরোধ মিটিয়ে দিলেও আজ আবার তারা হামলা চালিয়েছে।”
আরেক আহত কৃষক সাহাবুদ্দিন তালুকদার বলেন, “আমরা প্রায় ৩০ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছি। ভূমি অফিস থেকে ১৫৫ জন কৃষককে একসনা ইজারা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি আমাদের চাষ করতে দিচ্ছে না। বৃহস্পতিবার দুপুরে জমিতে গেলে তারা হামলা করে।”
অভিযুক্ত চরবাংলা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হাওলাদার বলেন, “চরবাংলার বিরোধীয় জমিতে আমাদের ঘর ছিল। আজ অন্যরা আমাদের ঘর ভেঙে নতুন ঘর তুলতে গেলে আমরা নিষেধ করেছি।”
চরবিশ্বাস ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাকের বিশ্বাস বলেন, “আমি দশমিনায় ছিলাম। ঘটনার খবর পেয়ে প্রশাসনকে জানিয়েছি। হামলার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।”
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদুল হাসান বলেন, “বিরোধ মীমাংসার জন্য গত শনিবার উভয় পক্ষকে নিয়ে বসা হয়েছিল। কৃষকদের বিরোধী গ্রুপের পরামর্শেই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। তারপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে— এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা জানান, চরবাংলার খাস জমি দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। প্রশাসনের মধ্যস্থতায় কয়েকবার সমঝোতা হলেও জমি দখলকে কেন্দ্র করে আবারও সহিংসতা দেখা দিয়েছে।