
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মেজবাহ উদ্দিনের অপসারণের দাবিতে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন—ডা. মেজবাহ উদ্দিন একজন “দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিস্ট দোসর”, যিনি অনৈতিকভাবে ও অবৈধ প্রক্রিয়ায় ইউএইচএফপিও পদে যোগদান করেছেন।
বক্তারা বলেন, “গত তিন বছর ধরে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।”
তাদের দাবি, ২০২৪ সালের তথাকথিত ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের’ সময় তৎকালীন এমপি এস.এম. শাহজাদার সঙ্গে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি পদোন্নতি লাভ করেন।
মানববন্ধন থেকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে তিন দফা দাবি জানানো হয়—
১️ ডা. মেজবাহ উদ্দিনকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।
২️ তার দায়িত্বকালীন সময়ে সব আর্থিক লেনদেনের বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে।
৩️ হাসপাতালের সব বরাদ্দ ও ব্যয়ের বিস্তারিত বিবরণ জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।
আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দেন, “যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই দাবি বাস্তবায়ন না হয়, তবে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
এ বিষয়ে পটুয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মো. খালেদুর রহমান বলেন, “আমি মাত্র ছয় মাস হলো দায়িত্বে এসেছি। কিছু অনিয়ম পেয়েছি, যা সংশোধনের চেষ্টা করছি। আগের সময়ের বিষয়গুলো তদন্ত করে রিপোর্ট করেছি।”
বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য উপ-পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, “বদলির সিদ্ধান্ত আমাদের হাতে নয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নেয়। যদি অনিয়ম থাকে, তা খতিয়ে দেখা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা সর্বদা কঠোর অবস্থানে আছি।”
উল্লেখ্য, গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে এবার সাধারণ মানুষ রাজধানীতে গিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। এখন দেখার বিষয়—স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়।


