
সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পটুয়াখালীর দুমকিতে চলছে মা-ইলিশ শিকারের মহোৎসব। প্রজনন মৌসুমে অভিযান থাকলেও পায়রা, পাতাবুনিয়া ও লোহালিয়া নদীতে দিন-রাত চলছে অবাধ শিকার।
জনবল ও দ্রুতযান সংকটে প্রশাসনের অভিযান কার্যক্রমে গতি না থাকায় সুযোগ নিচ্ছেন অসাধু জেলেরা। উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়হীনতার সুযোগে অনেক জেলে পরিবারের শিশু-কিশোররাও নেমে পড়েছে নদীতে মা-ইলিশ শিকারে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাংগাশিয়া, আঙ্গারিয়া, লেবুখালী ও মুরাদিয়া ইউনিয়নের অন্তত ১১টি পয়েন্টে দিন-রাত চলছে মা-ইলিশ শিকার। নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার পর থেকেই (৪ অক্টোবর) জেলেরা কৌশলে অভিযান এড়িয়ে মাছ ধরছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে শিশুরা পর্যন্ত নদীতে নামছে জাল ফেলতে।
অভিযানের খবর পেলে মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দ্রুত নদীর অপর প্রান্তের বাউফল, মির্জাগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ এলাকার খাল ও ঝোপঝাড়ে আশ্রয় নেয় জেলেরা। অভিযান শেষে ফের জাল ফেলে রাতভর চলে মাছ ধরা।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, এসব ধরা ইলিশ প্রকাশ্যে বিক্রি না করে গোপনে পাইকারদের কাছে বিক্রি হচ্ছে। উপজেলার হাজিরহাট, লেবুখালী ফেরিঘাট, আঙ্গারিয়া বন্দর ও পাতাবুনিয়া বাজারসহ অন্তত ১১টি ঘাটে ককশেডে মজুত রাখা হচ্ছে এসব মাছ।
প্রশাসনিক দুর্বলতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে মা-ইলিশ শিকার পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। মৌসুমি জেলেরা নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই ইলিশ শিকার চালিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৪ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত অভিযানে ৪টি নৌকা ও ১ লাখ ৯০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। আটক ৫ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং এক কিশোরকে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
উপজেলার দায়িত্বরত মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, “জনবল ও দ্রুতযান সংকট সত্ত্বেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. এজাজুল হক বলেন, “নদীতে অভিযান চালানো হলেও জেলেরা কৌশলে পালিয়ে যায়। তারপরও পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। স্থানীয়দের সহযোগিতা পেলে শতভাগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।”


