প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১৪, ২০২৬, ৩:৪০ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ১৩, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
ভাঙনের মুখে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঝুঁকিতে খাদ্য গুদাম ও স’মিল

দশমিনা প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে ঝুঁকিতে পড়েছে খাদ্য গুদাম ও একাধিক স’মিল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ৪০০ ফুট সড়কের অন্তত ৭০ ফুট অংশ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জানা গেছে, চরহোসনাবাদ গ্রামের খাদ্য গুদাম ও আশপাশে গড়ে ওঠা ৮ থেকে ১০টি স’মিলে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫টি কাঠবোঝাই ট্রলি চলাচল করে। এছাড়া খাদ্য গুদামে নিয়মিত চাল লোড-আনলোড করা হয়। চরহোসনাবাদ ব্রিজ থেকে খাদ্য গুদামের পশ্চিম পাশে মো. এনায়েত হোসেন খানের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ২০০ ফুট সড়ক বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৭ থেকে ৮ বছর আগে এডিবির অর্থায়নে চরহোসনাবাদ ব্রিজের ঢাল থেকে খাদ্য গুদামের সামনে হয়ে রাজ্জাক চৌকিদারের দোকান পর্যন্ত আরসিসি সড়ক নির্মাণ করা হয়। এরপর আর কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। বর্তমানে খাদ্য গুদামের সামনের অংশে সড়কটি খানা-খন্দে ভরে গেছে এবং আংশিকভাবে খালের দিকে হেলে পড়েছে।
সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাদ্য গুদামের সামনের প্রায় ৭০ ফুট সড়ক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ওই সড়ক দিয়ে চালবোঝাই ট্রলি ও কাঠবাহী যান চলাচল করায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী রেহেনা বেগম বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে খাদ্য গুদামে চাল আনা-নেওয়া হয়। আবার স’মিলে গাছও আনা হয়। রাস্তার একাংশ খালের দিকে হেলে থাকায় প্রায়ই ট্রলি খালে পড়ে যায়। অনেক মানুষ পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও খাদ্য গুদামের শ্রমিক রাজ্জাক হাওলাদার, মজিবর, মাহফুজ ও মনির হাওলাদার জানান, “উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এই গুদাম থেকে চাল সরবরাহ করা হয়। কিন্তু রাস্তার এমন অবস্থার কারণে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চাল পরিবহন করতে হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার না করলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
স’মিল মালিক মিরাজসহ অন্য ব্যবসায়ীরা বলেন, “উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঠ এনে এই রাস্তা দিয়েই স’মিলে নেওয়া হয়। কিন্তু সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। যে কোনো সময় প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।”
উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত এলএসডি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু ইউসুফ আলী বলেন, “এই খাদ্য গুদাম থেকে ভিজিএফ, ভিজিডিসহ সরকারের বিভিন্ন সহায়তার চাল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাঠানো হয়। কিন্তু গুদামের সামনের সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, “বিষয়টি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আমরা গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি দেখছি এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।”
সর্বসত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ | খবর পটুয়াখালী - Design & Developed by SoftX IT Ltd.