প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ৮:২৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ
দশমিনায় সংগ্রামী হাসিনা বেগমের গরু বিক্রির শেষ সম্বল সিঁধ কেটে চুরি

মো. বেল্লাল হোসেন, দশমিনা থেকে: পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় সিঁধ কেটে চুরির ঘটনা ঘটে। শুক্রবার ২৪শে এপ্রিল মধ্যরাতে উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বড় গোপালদী গ্রামের খাদেম আলী সিকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে স্বামী মো. নূর হোসেন সিকদারের মৃত্যুর পর থেকেই স্ত্রী হাসিনা বেগমের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। তিনটি শারীরিক প্রতিবন্ধী সন্তান—ছেলে হাসান (২৭), মেয়ে কুলসুম আক্তার (২৫) এবং ছোট মেয়ে মরিয়ম বেগম (১১)—কে নিয়ে শুরু হয় তার টিকে থাকার লড়াই। স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য জিয়ের কাজ, মুগডাল তোলা, ধানের ছড়া তোলার কাজ করে সংসার চালান তিনি। ওই কষ্টার্জিত জমানো টাকা দিয়ে একটি গরু কিনে লালন-পালন করেন। তিন সন্তান ও নিজে একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করেন। শুক্রবার উলানিয়া বাজারে গরুটি বিক্রি করেন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। গরু বিক্রির টাকা ঘরের কোণে ট্রাংকের মধ্যে রাখেন। শুক্রবার গভীর রাতে কোনো এক সময় ঘরের পূর্ব পাশে সিঁধ কেটে ওই ট্রাংক থেকে টাকা চুরি করে নিয়ে যায় কে বা কারা। সকালে হাসিনা বেগম ঘরের পূর্ব পাশে সিঁধ কাটা দেখে ঘরের মধ্যে ট্রাংকে টাকা খোঁজ করে না পেয়ে নির্বাক হয়ে যান। পরে এলাকার লোকজনকে জানান।
চুরির ঘটনার পর হাসিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর ১০ বছর ধরে আমি শারীরিক প্রতিবন্ধী তিন সন্তান নিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে সংগ্রাম করে এই পর্যন্ত বেঁচে আছি। অন্যের ঘরে জিয়ের কাজ, পরের ক্ষেতের মুগডাল তোলা, ধানের ছড়া তোলার আয় দিয়ে কোনো রকম সংসার চালিয়েছি। শুক্রবার বিকেলে উলানিয়া হাটে গরু বিক্রি করি ঘর করার জন্য। সামনে বর্ষা, তাই নতুন ঘর করার জন্য গরু বিক্রি করলাম। কিন্তু সেই টাকাও চুরি হয়ে গেল। এখন আমার আর কিছু রইল না। এই তিনটা প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে কোথায় যাবো? আল্লাহ আমাকে আর কত কষ্ট দেবেন। আল্লাহ কি আমাকে দেখেন না।”
তিনি আরও বলেন, থানায় গিয়ে মামলা করার সাহসও পাচ্ছেন না। এতে এলাকায় শত্রুতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। তাই শেষ ভরসা হিসেবে আল্লাহর কাছেই বিচার দিয়েছেন এই অসহায় মা।
স্থানীয় ও প্রতিবেশীরা জানান, এমন একটি ন্যক্কারজনক চুরির ঘটনা শুধু একটি পরিবারের স্বপ্নই ভেঙে দেয়নি, বরং মানবিকতার প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে। একজন সংগ্রামী নারীর বহু বছরের কষ্টার্জিত সঞ্চয় এভাবে লুট হয়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে সমাজের জন্য এক লজ্জাজনক অধ্যায়। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এখন একটাই দাবি—দ্রুত এই চুরির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং অসহায় এই পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে তাদের নতুন করে বাঁচার সুযোগ করে দেওয়া হোক। হাসিনা বেগমের জীবনের এই নির্মম বাস্তবতা যেন আমাদের মানবিকতা ও দায়িত্ববোধকে নতুন করে জাগ্রত করে, এই প্রত্যাশাই সবার।
দশমিনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, এই ঘটনার কথা শুনে তিনি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সর্বসত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ | খবর পটুয়াখালী - Design & Developed by SoftX IT Ltd.