পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে তিনটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
শনিবার দিবাগত রাত প্রায় সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ রনগোপালদী গ্রামের হাবিব মৃধা বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
অগ্নিকাণ্ডে ওই গ্রামের হাবিব মৃধা, কামাল মৃধা ও জাফর মৃধার বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনে ঘরের আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার, প্রয়োজনীয় মালামালসহ তিনটি ছাগল পুড়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার গভীর রাতে কামাল মৃধার রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। একই বাড়ির বিউটি বেগম সেহরি খাওয়ার জন্য ঘুম থেকে উঠে রান্নাঘরে আগুনের ফুলকি দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। তারা পাশের পুকুর থেকে পানি ও কাদামাটি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কামাল মৃধা জানান, রাতে তারাবির নামাজ শেষে পরিবারসহ ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। পাশের ঘরের লোকজনের চিৎকার না শুনলে স্ত্রী-সন্তানসহ আগুনে পুড়ে মারা যেতে পারতেন। অগ্নিকাণ্ডে তিনটি পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে জাফর মৃধা অভিযোগ করেন, পাশের বাড়ির হারুন মৃধার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা ব্যবহার নিয়ে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার বিকেলে হারুন মৃধা ও শাকিল মৃধা তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন।
দশমিনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আগুন লাগার কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদৎ মো. হাচনাইন পারভেজ জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কেউ শত্রুতাবশত আগুন দিয়ে থাকলে অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রনগোপালদী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. রুবেল সরদার জানান, সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা ও ১০০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ঘর নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকবে বলেও তিনি জানান।