মো. বেল্লাল হোসেন, দশমিনা প্রতিনিধিঃ
একটি রাজনৈতিক দল যখন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়, তখন জনগণের ভেতর থেকেই বৃহত্তর ঐক্যের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের সৃষ্টি হয়। এমন মন্তব্য করেছেন পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় দশমিনা উপজেলার সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত শেষ নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
হাসান মামুন বলেন, “গলাচিপা–দশমিনায় এবারের নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক দলের ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই জনগণের মধ্যে এক ঐতিহাসিক ঐক্য গড়ে উঠেছে। এই ঐক্যের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে ঘোড়া মার্কার বিজয়ের মধ্য দিয়ে।”
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আপনাদের আশা ও প্রত্যাশা পূরণ করতেই আমি এই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। প্রার্থী হওয়ায় আমাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুধু আমি নই, দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলার বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মীকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। কিন্তু আপনারাই আমার শক্তি, আপনারাই আমার আশ্রয়।”
জনসভায় উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন থেকে হাজারো বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ ভোটার দলে দলে অংশ নেন।
হাসান মামুন আরও বলেন,
“হিন্দু–মুসলিম বেঁধেছে জোট,
ঘোড়া মার্কায় দেবে ভোট।
নারী–পুরুষ বেঁধেছে জোট,
ঘোড়া মার্কায় দেবে ভোট।”
তিনি বলেন, “আজ আর স্লোগান দেওয়ার প্রয়োজন নেই, জনগণের ভেতরেই সেই ঐক্য গড়ে উঠেছে। বিএনপি–আওয়ামী লীগ, সব শ্রেণির মানুষ আজ ঘোড়া মার্কায় একতাবদ্ধ।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “নির্বাচন ঘিরে নানা ধরনের মিথ্যাচার, হুমকি ও অপপ্রচার চলছে। কেউ কেউ শপথ ভঙ্গ করে পক্ষ পরিবর্তন করছে। সাধারণ ভোটার ও নেতাকর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে নির্বাচন হবে না, কারচুপি হবে, ডিক্লেয়ার দিয়ে ফল নিয়ে যাবে। আমি স্পষ্টভাবে বলছি এসব অপপ্রচারে কান দেবেন না।”
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই আপনারা ভোটকেন্দ্রে লাইনে দাঁড়াবেন। ভোট দিয়ে ফলাফল না দেখা পর্যন্ত কেউ বাড়ি ফিরবেন না।”
হাসান মামুন বলেন, “গলাচিপা–দশমিনা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও অনুন্নত এলাকা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জরাজীর্ণ, রাস্তাঘাট চলাচলের অযোগ্য। এই এলাকার উন্নয়নের জন্য আমরা যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, তা ইতোমধ্যে ইশতেহারে তুলে ধরা হয়েছে। জনগণের ভালোবাসাই আমার একমাত্র শক্তি।”
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের বিজয়ের মধ্য দিয়েই সব অপশক্তির পরাজয় হবে এবং এই ঐক্যের চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত হবে।”