পটুয়াখালীর দশমিনায় চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে উপজেলা শ্রমিক দলের সদস্য সচিবের নেতৃত্বে হামলার ঘটনায় দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আহতদের দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন দশমিনা উপজেলা শ্রমিক দলের সদস্য সচিব কাওসার খাঁন রিকোজ। তিনি উপজেলার বাশবাড়িয়া ইউনিয়নের আমবাড়িয়া গ্রামের ইমাম হোসেন খাঁনের ছেলে।
আহতরা হলেন বাশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঢনঢনিয়া গ্রামের মৃত হানিফ দর্জির ছেলে মো. সাবুল হোসেন ও আমীর হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে সাবুল হোসেন ও আমীর হোসেন একই গ্রামের মৃত এমদাদ খাঁনের দুই কন্যার কাছ থেকে পারিবারিক গোরস্থান স্থাপনের জন্য ছয় কড়া জমি ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের পর থেকেই অভিযুক্ত কাওসার খাঁন রিকোজ দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ওই জমি দখলে বাধা সৃষ্টি করেন এবং দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় একাধিকবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে সালিস বৈঠক হলেও অভিযুক্ত পক্ষ তা মানেনি। গত বৃহস্পতিবার (তারিখ) সকালে জমিতে মাটি কাটার কাজ শুরু করলে বিকেলে কাওসার খাঁন রিকোজ তার ভাই সোহেলসহ ১০-১২ জন সহযোগী নিয়ে এসে বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে গেলে তারা সাবুল হোসেন ও আমীর হোসেনের ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত জখম করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আহত দুজনকে উদ্ধার করে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই সাবুল হোসেন বাদী হয়ে দশমিনা থানায় কাওসার খাঁন রিকোজকে প্রধান আসামি করে তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত আমীর হোসেন বলেন, “আমাদের কবলাকৃত জমি দখলে না দিতে রিকোজ খাঁন দীর্ঘদিন ধরে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। টাকা না দেওয়ায় আমাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। তারা আমাদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কাওসার খাঁন রিকোজ বলেন, “ওই জমি নিয়ে পারিবারিক ভাগ-বণ্টনের সালিস চলমান রয়েছে। সেখানে আমারও অংশ আছে। সালিস চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো কাজ না করতে বলেছি। চাঁদা বা হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদৎ মো. হাছরাইন পারভেজ বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”