
মো. বেল্লাল হোসেন, দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
পটয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় জোরপূর্বক মন্দিরের জায়গা দখলের চেষ্টা করলে বাধা দিতে গিয়ে নারীসহ দুইজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের ঠাকুরের হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরের হাট বাজারে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা মণ্ডপ নির্মাণ করা হয় বহু বছর আগে। ঐ জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে এবং এ নিয়ে পটুয়াখালী দায়রা জজ আদালতে মামলা চলমান। বৃহস্পতিবার রাতে চিত্ত ভক্ত, ভব সিকদার, অমল মণ্ডলসহ ১০-১২ জন ব্যক্তি বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করে জায়গা দখলের চেষ্টা করেন।
এসময় মন্দিরে জমি দানকারীর স্ত্রী রানীবালা ও তার ছেলে বাধা দিলে তাদের মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে দশমিনা হাসপাতালে ভর্তি করে।
আহত রানীবালা বলেন, “আমার স্বামী মন্দিরের জন্য ২ শতক জমি দান করেছিলেন। মন্দিরের সামনে যে সামান্য জায়গা আছে, সেটিই আমাদের শেষ সম্বল। সেই জায়গা জোর করে দখল করতে এরা বারবার চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার রাতে বাধা দিলে তারা আমাকে ও আমার ছেলেকে মারধর করে। আমি এর বিচার চাই।”
স্থানীয় রনজিৎ হাওলাদার জানান, জমি সংক্রান্ত মামলা আদালতে বিচারাধীন এবং এ বিষয়ে থানায় অভিযোগও দেওয়া আছে। পুলিশ উভয় পক্ষকে আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত কোনো কাজ না করার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু নির্দেশ অমান্য করে রাতে বাউন্ডারি নির্মাণ শুরু হয়। বাধা দিলে তার স্ত্রী ও ছেলেকে মারধর করে আহত করা হয়।
বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুব খান বলেন, “মন্দিরের জন্য জায়গা দেওয়ার পরও কয়েকজন লোক তার অবশিষ্ট জমি দখল করার চেষ্টা করছে। এভাবে দুর্বল মানুষকে বারবার মারধর করা ন্যাক্কারজনক। এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিত।”
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কথা বলতে রাজি হননি।
দশমিনা থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল আলীম বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”


