ডিজিটাল বিপ্লবের সুফল কাজে লাগিয়ে তরুণ সমাজকে আত্মনির্ভরশীল ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে পটুয়াখালীতে চার দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সঠিক ব্যবহার এবং গুজব প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পটুয়াখালী ফ্রেন্ডস কম্পিউটার অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়। ২২ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আয়োজিত এ কর্মশালায় পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার বাছাইকৃত ৫০ জন তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুর রশিদ। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “তরুণরাই আজকের ও আগামীর চালিকাশক্তি। ডিজিটাল বিপ্লবের এই সময়ে দক্ষতা ও সচেতনতা ছাড়া এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।”

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বুলিং ও হয়রানি বর্তমানে বড় একটি সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সংকট মোকাবিলা এবং নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণরা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ধুমকেতু ইয়ুথ ফাউন্ডেশন-এর সভাপতি আহম্মেদ কাওসার ইবু বলেন, প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী তরুণদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা, গুজব প্রতিরোধ এবং প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের মাধ্যমে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও সহনশীলতা প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ এলাকায় ‘ডিজিটাল সিভিক পিস অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং নিরাপদ ও সচেতন ডিজিটাল সমাজ গঠনে নেতৃত্ব দেবেন।
সময়োপযোগী এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে ধুমকেতু ইয়ুথ ফাউন্ডেশন। কর্মসূচির অর্থায়ন ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা CIVICUS, Accountability Lab এবং DDI।