
স্টাফ রিপোর্টার: পটুয়াখালী সদর উপজেলায় চায়ের দোকানের বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে রহিম প্যাদা (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত রহিম প্যাদা সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আবাসন এলাকার বাসিন্দা।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রহিম প্যাদা দীর্ঘদিন ধরে নিজ এলাকায় একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করতেন। স্থানীয় কামাল হাওলাদার তার দোকান থেকে বাকিতে পণ্য নিতেন। মঙ্গলবার রাতে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, কামাল হাওলাদারসহ কয়েকজন তাকে দোকান থেকে টেনে নামিয়ে লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. জাকের হোসেন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার আগের দিনও পাওনা টাকা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হুমকির ঘটনা ঘটে। এরই জের ধরে এ হামলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতের বড় মেয়ে নাজমা অভিযোগ করে বলেন, কামাল হাওলাদার, জামাল হাওলাদার, নুর ইসলাম হাওলাদার, খোকন হাওলাদার ও শাহাবুদ্দিন তালুকদার তার বাবাকে ঘিরে ধরে মারধর করেন। বাধা দিতে গেলে তার মাকেও লাঞ্ছিত করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
নিহতের ছোট মেয়ে তানজিলা বলেন, তার বাবা দীর্ঘদিন ঢাকায় চাকরি করার পর এলাকায় ফিরে এসে চায়ের দোকান চালাতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
ঘটনার পর অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
