
পটুয়াখালীর মহিপুরে অটো ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাত সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশের অপরাধ তদন্ত শাখা (ডিবি) ও মহিপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে পটুয়াখালী ও বরিশালের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময় ছিনতাই হওয়া চারটি অটোগাড়ী উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ১ ডিসেম্বর ভোর সাড়ে ৩টার দিকে লতাচাপলী ইউনিয়নের মম্বিপাড়া নতুন বাজার বেড়িবাঁধ এলাকায় ট্যুরিস্ট পরিচয়ে ডেকে নিয়ে অটোচালক মোঃ মুছাকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করার পর তার চালানো বোরাক অটোগাড়ী ছিনতাই করে পালিয়ে যায় একটি ছিনতাইকারী দল। এ ঘটনায় মহিপুর থানায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ সুপার পটুয়াখালীর দিক নির্দেশনায় পুলিশের কয়েকটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করে।
পরবর্তীতে ২ ডিসেম্বর দিনভর অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোঃ নাসির হাওলাদার, মোঃ শাহীন হাওলাদার, মোঃ জাকির হোসেন গাজী, মোঃ লিটন আকন, মোঃ জসিম হাওলাদার, আবুল বাশার ও মোঃ রাহাত হাওলাদার। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অটো ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করে। পুলিশ জানায়, তারা আন্তঃজেলা ছিনতাই চক্রের সদস্য এবং পটুয়াখালী–বরিশাল অঞ্চলে নিয়মিত অটোগাড়ী ছিনতাই করে মডিফাই করে বিক্রি করত।
অটোচালক মুছা জানান, আগের দিন কুয়াকাটা চৌরাস্তা থেকে এক ব্যক্তি ট্যুরিস্ট পরিচয়ে সূর্যোদয় দেখতে যাওয়ার কথা বলে মোবাইল নম্বর নেয় এবং পরদিন ভোরে যেতে বলে। নির্ধারিত স্থানে গেলে কয়েকজন মিলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং এক পর্যায়ে পিঠে ছুরি মারে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে অটোগাড়ীটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
গ্রেফতারকৃত রাহাত হাওলাদারের বাড়ির আঙিনা থেকে বিভিন্ন সময় ছিনতাই হওয়া চারটি অটোগাড়ী উদ্ধার করা হয়। আসামি নাসির হাওলাদার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। পুলিশ জানায়, মামলাটির তদন্ত অব্যাহত আছে এবং এই ঘটনার সাথে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


