পটুয়াখালীর বাউফলে দাখিল পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ধানদি কামিল মাদ্রাসা পরীক্ষা কেন্দ্রে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং অন্যান্য পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ কেন্দ্রে চলতি বছর ৫টি মাদ্রাসার ২৬৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন।
মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত আরবী দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় প্রতিটি কক্ষে কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় মৌলভী শিক্ষকদের। একই ঘটনা ঘটে গত বৃহস্পতিবার কুরআন মজিদ বিষয়ের পরীক্ষাতেও। অথচ পরীক্ষা পরিচালনার নিয়ম অনুযায়ী, আরবী বিষয়ের পরীক্ষায় সাধারণ বিষয়ের শিক্ষক এবং সাধারণ বিষয়ের পরীক্ষায় আরবী বিষয়ের শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ার কথা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নওমালা ও কনকদিয়া দাখিল কেন্দ্রের দুই শিক্ষক জানান, ধানদি কেন্দ্রে আরবী ও কুরআন মজিদ বিষয়ের পরীক্ষায় কক্ষে মৌলভীদের বসিয়ে সরাসরি প্রশ্নের সমাধান করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তারা আরও জানান, এটি পরীক্ষার নিরপেক্ষতা ও ন্যায়সংগত পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
মঙ্গলবারের পরীক্ষায় দায়িত্ব বণ্টনের একটি তালিকাও সামনে এসেছে, যেখানে দেখা যায় ১নং কক্ষে: সহকারি শিক্ষক মো. শাহাবুদ্দিন ও সহকারি মৌলভী সোহরব হোসেন, ৪নং কক্ষে: সহকারি শিক্ষক মো. ওবায়দুল্লাহ ও সহকারি মৌলভী শামিমা নাসরিন, ৫নং কক্ষে: সহকারি শিক্ষক মহসীন উদ্দিন ও সহকারি মৌলভী রাজিয়া বেগম এভাবে কক্ষে মৌলভী শিক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এছাড়া কেন্দ্র সচিবের দায়িত্বে একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও সেখানে দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস সহকারী শাহাবুদ্দিন মুন্সি। যা নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কেন্দ্র সচিব ও সুলতানাবাদ ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. মোশারেফ হোসেন দাবি করেন, কক্ষে সাধারণ বিষয়ের শিক্ষকই দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিষয়টি জানতে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মহসীন উদ্দিন বলেন, “ওই কেন্দ্রের বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”