স্টাফ রিপোর্টারঃ রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সভায় ধারাবাহিক অনুপস্থিতির অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ এর অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক অঙ্গন ও অফিসপাড়ায় আলোচনা শুরু হয়েছে।গত ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ মিনারে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তবে ওই অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান কিংবা উপাধ্যক্ষ ডা. এফ এম আতিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন না। কলেজের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।এ ছাড়া ১ মার্চ সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার বিভিন্ন দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। নিজ জেলায় সফরকালে জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হলেও ওই সভাতেও মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ অনুপস্থিত ছিলেন।সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়মিত অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভাতেও তারা ধারাবাহিকভাবে অনুপস্থিত থাকছেন। এতে সরকারি নির্দেশনা, কলেজের কার্যক্রম ও বিভিন্ন সমস্যা-সম্ভাবনার বিষয়গুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে দাবি করা হয়, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ অধিকাংশ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। ফলে বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে তাদের উপস্থিতির হার কম।এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, “নিজস্ব একটি অনুষ্ঠানের কারণে প্রতিমন্ত্রীর সভায় উপস্থিত থাকতে পারিনি। আর ২১ ফেব্রুয়ারি আমার বিবাহবার্ষিকী থাকায় পারিবারিকভাবে ব্যস্ত ছিলাম।” উপাধ্যক্ষের অনুপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।”পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারেক হাওলাদার বলেন, “পরপর তিনটি উন্নয়ন সভায় কোনো দপ্তর প্রধান অনুপস্থিত থাকলে বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অবহিত করা হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি ও প্রতিমন্ত্রীর সভায় তাদের অনুপস্থিতির কারণ খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে।”বিষয়টি নিয়ে জেলার গুরুত্বপূর্ণ এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শৃঙ্খলা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।