জহিরুল ইসলাম, পটুয়াখালী:
ঈদের দীর্ঘ ছুটির মধ্যেও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রেখে প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পটুয়াখালী জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ। এ সময়ে জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২২টি স্বাভাবিক প্রসব সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছুটির দিনগুলোতে গর্ভবতী মায়েদের প্রসবপূর্ব ও প্রসবোত্তর সেবা, নিরাপদ প্রসব এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু রাখা হয়।
রাঙ্গাবালী উপজেলার দুর্গম ইউনিয়ন ছোট বাইশদিয়ার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, “ঈদের দিনই আমার স্ত্রীর স্বাভাবিকভাবে সন্তান জন্ম হয়েছে। ছুটির মধ্যেও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সেবা চালু থাকায় আমরা দ্রুত চিকিৎসা পেয়েছি। না হলে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হতো।”
কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, “ঈদের দিনও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা চালু থাকায় আমরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেয়েছি। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাই।”
পটুয়াখালী জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী পরিচালক (সিসি) ডা. শামসুজ্জামান বলেন, “ঈদের ছুটিতেও জেলার আটটি উপজেলার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখা হয়। মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করাই ছিল আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
জেলার আরেক সহকারী পরিচালক মো. আলমগীর হোসাইন বলেন, দুর্গম এলাকার নিম্নআয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।
জেলা পরিবার পরিকল্পনা উপ-পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি), উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সমন্বয়ে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমানো এবং নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এদিকে ঈদের ছুটিতেও স্বাস্থ্যসেবা চালু থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, এ উদ্যোগের ফলে অনেক মা ও শিশু সময়মতো চিকিৎসা পেয়ে উপকৃত হয়েছেন, যা একটি মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।